মহিউদ্দিন জুয়েল
১২ জানুয়ারি, ২০২৬
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার আজবপুর ও টেংরাটিলা গ্রামের মানুষের কাছে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি একটি দুঃস্বপ্নের নাম। সেই দিন কানাডীয় কোম্পানি 'নাইকো'র অদক্ষতায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পুরো এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ স্পর্শ করেছিল, যা স্থায়ী হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, দুই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও সেই গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার।
বিস্ফোরণ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা
২০০৫ সালের সেই বিস্ফোরণে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২৪ জুন আবারও সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেকেই আইনি জটিলতা, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা এবং অবহেলার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে এই অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রটি। ২১ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় মাটির নিচে থাকা বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ কোনো কাজে আসছে না।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
বর্তমানে বাংলাদেশ যখন জ্বালানি সংকটে হিমশিম খাচ্ছে এবং উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে এলএনজি (LNG) আমদানি করতে হচ্ছে, তখন টেংরাটিলার মতো ক্ষেত্রগুলো ফেলে রাখা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে:
উৎপাদন শুরু হলে: এখান থেকে দৈনিক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব।
জ্বালানি ঘাটতি কমলে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি ফিরবে, যা পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।
প্রকল্পটি পুনরায় সচল হলে স্থানীয় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এলাকাবাসীর আক্ষেপ
দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় ভূগর্ভস্থ গ্যাস মাঝেমধ্যেই আশপাশের টিলা বা টিউবওয়েল দিয়ে বের হতে দেখা যায়, যা মাঝেমধ্যে আতঙ্কেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়