মুহাম্মদ শাহ্ আলম ।।
ঝিনাইগাতীর শান্ত জনপদ ধানশাইল গ্রামে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে এক ভয়ঙ্কর কালো ছায়া। এক মায়ের রক্তাক্ত আর্তনাদ কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা এলাকা। পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই নিজের সন্তানের হাতে প্রাণসংকটে এখন মায়ের জীবন।
৮০ বছরের ওমেছা বেওয়া—যিনি সারা জীবন সন্তানদের লালন করেছেন, এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে। আর তাঁর বিরুদ্ধে এ ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ উঠেছে নিজেরই ছেলে খোরশেদ আলমের (৫৫) বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জমি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে খোরশেদ আলম ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো কুঠারের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অসহায় বৃদ্ধা। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার আর আতঙ্ক। স্থানীয়রা ছুটে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল—কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় অবশেষে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ
ঘটনার খবর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিন্দা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। সন্তান হয়ে মায়ের প্রতি এমন নৃশংস আচরণ অনেকের কাছেই অকল্পনীয়।
পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই রাতে অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে খোরশেদকে আটক করে
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরপরই ঘাতক খোরশেদকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
যে মা জীবনের সবটুকু ত্যাগ করে সন্তানকে বড় করলেন, সেই সন্তানের হাতেই আজ মায়ের জীবন হুমকির মুখে!
এ ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, সমাজের গভীর সংকটকেও উন্মোচন করে। জমির মতো সম্পত্তির জন্য ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে হিংসা ও রক্তপাত
ধানশাইল গ্রামের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—সম্পত্তি কোনোদিনই রক্তের বন্ধনের চেয়ে বড় নয়। অথচ সেই সম্পত্তির লোভেই ক্ষতবিক্ষত হলো মাতৃত্বের পবিত্র সম্পর্ক।
এখন গ্রামের মানুষ প্রার্থনা করছেন, হয়তো অলৌকিকভাবে মায়ের জীবন বাঁচুক। আর সন্তান খোরশেদের জন্য অপেক্ষা করছে আইন ও সমাজের কঠিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর দিন।
মন্তব্য করুন