মোঃ পারভেজ মিয়া
নতুন বছরের নতুন বই নিয়ে বাড়িতে আসলেও নতুন বই নিয়ে আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হলো না লামিয়ার। এমন অপ্রাপ্ত বয়সে কেন আত্মহত্যা করবে সেই কেন,র উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না কিশোরী লামিয়ার বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন শিক্ষক-শিক্ষিকা সহপাঠিসহ প্রতিবেশীরা । অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ঠান্ডা প্রকৃতির মেয়ে ছিল লামিয়া। পরিবারের কারোর কাছেই নেই স্মার্টফোন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বাসার আশেপাশের সকলের কাছেই ভালো মেয়ে হিসাবে পরিচিত ছিল লামিয়ার তারপরও ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা
গাজীপুরের মহানগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড বাড়িয়ালি গ্রামে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মোছা. লামিয়া আক্তার (১১) নামের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাসন থানাধীন বাড়িয়ালি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ভাড়া বাসায় আনুমানিক তিন বছর যাবত ভাড়া থাকতো কিশোরী লামিয়ার পরিবার। অটো চালক শাজাহানের চার সন্তান (তিন ছেলে এক মেয়ে) লামিয়া ছিল তৃতীয়। কিশোরী লামিয়ার মা নার্গিস বেগম ইমন ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি গার্মেন্টস কারখানায় দীর্ঘদিন যাবত চাকরি করে স্বামী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। লামিয়া পশ্চিম মারিয়ালি আদর্শ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় লামিয়া তার ৬ বছরের ছোট ভাই আবু রায়হানকে নিয়ে বাসায় ছিল, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে লামিয়ার বাবা তিন দিন পূর্বেই নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। লামিয়ার মা প্রতিদিনের ন্যায় সকালবেলায় কর্মস্থলে ছুটে যান। ঘটনার দিন ১১/০১/২০২৫ রবিবার সন্ধ্যা সাতটার সময় লামিয়ার চাচাতো ভাই আশিক (২০) তাদের ভাড়া বাসায় আসলে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পায়, এবং সে ডাকাডাকি শুরু করে। এক পর্যায়ে ভিতর থেকে লামিয়ার ছয় বছরের ছোট ভাই দরজা খুলে দিলে আশিক তার চাচাতো বোন কিশোরী লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় পরবর্তীতে তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে বাসন থানায় বিষয়টি অবহিত করে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে বাসন থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বাংলাদেশ সমাচারকে জানান। কিশোরী লামিয়া নামের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আত্মহত্যার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে বাসন থানা পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়, নিজ ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরী লামিয়াকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।