মোঃ ফখরুল মোস্তফা
হাতিয়ার সাথে যোগাযোগ দুই ধরনের, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও বর্হিযোগাযোগ। আর যোগাযোগের মাধ্যম হল তিন ধরনের – আকাশ, স্থল ও জল। হাতিয়া বিচ্ছিন্ন ও দূর্গম দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় যোগাযোগের জন্য বেশ বেগ পেতে হয়। আমরা চাই সেই দূর্গম ও বিচ্ছিন্ন তকমা ঘুচিয়ে দ্রুত দেশের যেকোন প্রান্তের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা।
হাতিয়া দ্বীপ উপজেলা, তিনদিকে নদী এবং একদিকে সাগর। বয়ারচর ও নলেচর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং হাতিয়ার উত্তরে অবস্থিত যা হাতিয়ার প্রবেশ পথ এবং দেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত। এছাড়াও হাতিয়ার পূর্বদিকে ভাসানচর, স্বর্ণদ্বীপ সহ বেশ কয়েকটি চর জেগেছে। হাতিয়ার উত্তর-পশ্চিমে জাগলার চর, ঢালচর, মৌলভির চর সহ বেশ কয়েকটি চর জেগেছে। নিঝুমদ্বীপ ও দমারচর মোক্তারিয়া চ্যানেল দ্বারা হাতিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। হাতিয়ার পশ্চিমে ও দক্ষিণেও বেশ কয়েকটি চর জেগেছে যার মোট সংখ্যা ৩৯টি।
আমরা হাতিয়ার টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য মাস্টার প্ল্যান করেছি এবং তা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করব।
১. স্থল যোগাযোগের জন্য প্রথমে পুরো হাতিয়া, নিঝুমদ্বীপ, দমারচর, বয়ারচর, নলেচর, ঢালচর, গাসিয়ার চর সহ উল্লেখযোগ্য চরগুলো, যেগুলোতে জনবসতি আছে এবং চাষাবাদ হয়, সেগুলোর চারপাশে টুইনস্টার পদ্ধতিতে টেকসই বেড়িবাঁধ দেওয়া হবে যা ইঁদুর ক্ষতি না করতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, লবণাক্ত পানি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ হয়ে জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়ন হবে। জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা যাবে। এবং বেড়িবাঁধের চারপাশে সবুজ টানেল বা করিডোর ও সামাজিক বনায়ন করা হলে পর্যটকদের আকর্ষণ করবে এবং স্থানীয় লোকদের জীবিকার উৎস তৈরী হবে।
২.পাকিস্তান আমলে হাতিয়ায় হেলিকপ্টার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল, সেটা পুনরায় চালু করার লক্ষে কাজ করা যেতে পারে।
৩. হাতিয়ার প্রধান সড়ক বয়ারচর থেকে মূল হাতিয়া হয়ে নিঝুমদ্বীপ পর্যন্ত দুই লেন বিশিষ্ট করা যেতে পারে। এবং তমরুদ্দিন থেকে নিঝুমদ্বীপ সড়ককেও দুই লেন করা যেতে পারে।
৪. নিঝুমদ্বীপ থেকে মোক্তারিয়া এবং নিঝুমদ্বীপ থেকে দমারচরে সেতু নির্মাণ করা যেতে পারে।
৫. সুখচরের সাথে জাগলার চর, ঢালচর, গাসিয়ার চর এবং যেসব চর মূল হাতিয়ার নিকটবর্তী, সেগুলোর সাথে হয় বাঁধ না হয় সেতু নির্মাণ করে হাতিয়ার ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
৬. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নতুন রাস্তা, সেতু, কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে পুরো এলাকায় সহজে যোগাযোগ রক্ষা করা যাবে। সারাবছর রাস্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংস্কারের দরকার হলে তা করা হবে।
৭. যোগাযোগ রক্ষায় নিয়োজিত যানবাহন (গাড়ি, রিকশা, মোটরসাইকেল) সহ সব ধরনের যানবাহনের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।
৮. দ্রুত যোগাযোগ রক্ষার জন্য ডিজিটাল মনিটরিং সেল করা হলে যেকোন সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
৯. হাতিয়ার মূল যোগাযোগ হল নৌ-যোগাযোগ। তাই এ যোগাযোগের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করে যেতে হবে। হাতিয়া থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে নিয়মিত জাহাজ ও সিট্রাক চলবে। হাতিয়া থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রতিদিন জাহাজ চলবে। হাতিয়া থেকে ঢাকায় বিকেলে জাহাজ ছাড়ানো এবং ঢাকা থেকে হাতিয়ায় সকালে লঞ্চ ছাড়ানো যায় কিনা তা আলোচনা করা হবে। এছাড়াও হাতিয়া থেকে নোয়াখালীতে দৈনিক ২ বার সিট্রাক যাতায়াত করবে। ফেরি চলবে। হাতিয়ায় নতুন ঘাট যেমন মোক্তারিয়া, সূর্যমুখী এবং পুরাতন ঘাট যেমন চরচেঙ্গা ও জাহাজমারা পুনরায় চালু করা যেতে পারে।
১০. নৌ-চলাচল উপযোগী করার জন্য নিয়মিত কার্যকরী ড্রেজিং করা হবে।
১১. যেহেতু নদীবন্দরের কাজ চলছে, তা দ্রুত সম্পন্ন করে হাতিয়ার সাথে পুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
১২. হাতিয়ার ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে হাতিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করা হলে এবং হাতিয়ার সাথে পুরো দেশের যোগাযোগ রক্ষা করা গেলে হাতিয়াকে পুরো দেশের সাথে যোগাযোগের একটি কেন্দ্র বা হাব করা যাবে।
১৩. কাঠ বা তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ও নিরাপত্তাবিহীন নৌযান নিষিদ্ধ করা হবে এবং সিট্রাক ও স্পীডবোটের ভাড়া যুক্তিসংগত পর্যায়ে আনা হবে।
১৪. হাতিয়ার সাথে প্রতিবেশী চর যেমন ভাসানচর, ঢালচর, জাগলারচর, বয়ারচর, দমারচর, স্বর্ণদ্বীপের যোগাযোগের জন্য সহজলভ্য যানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
১৫. যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে পর্যটনের বিকাশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করা হবে।