মো মোজাহিদ হোসেন
মোহনগঞ্জ বিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে স্বরণ তালুকদার নামে এক খন্ড কালিন শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ও ভয়ে নবম শ্রেণির ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইফাত জাহান
ইমা কে অজ্ঞান অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। রাবেয়া আক্তার, পান্না রানি রায়, তাহমিনা আক্তার রুবি নামে তিনজন
মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও ভর্তির ৬ ঘন্টা পরেও জ্ঞান ফিরেনি রাবেয়া আক্তারের।
রাবেয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন কর্মরত চিকিৎসক।
শুক্রবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করার কথা বলেন। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আহত শিক্ষার্থী পান্না রানি রায় জানান, বৃহস্পতিবার ইংরেজি ক্লাস পরিক্ষা ছিল, পরিক্ষা শেষে খণ্ডকালীন শিক্ষক স্বরণ তালুকদার সকল শিক্ষার্থীদের বই বের করতে বলেন, পরিক্ষা থাকায় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বই না আনায় স্টিলের স্কেল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া ভাবে মারধর শুরু করেন শিক্ষক স্বরণ।
এসময় ক্লাসে এক ভিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় পান্না নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
রাবেয়ার মামা মানিক মিয়া জানান, স্কুলে পরিক্ষা থাকায় বই নেয়নি রাবেয়া। এ জন্য তাকে মারধর করার ভয় দেখালে রাবেয়া অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৬ ঘন্টা এখনো জ্ঞান ফিরে নি।
বিদ্যালয়ের গনিত শিক্ষক মুক্তাদির হোসেন জানান, তিনি সাড়ে ১২ টায় ক্লাসে ঢুকেন,তখন দুই শিক্ষার্থী ইমা ও রাবেয়াকে অজ্ঞান অবস্থায় মাথায় পানি দিচ্ছেন অন্য শিক্ষার্থীরা। তাদের জ্ঞান না ফেরায়
অজ্ঞান অবস্থায় তাদের মোহনগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম জানান, তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাজে ইউ এন ও অফিসে গিয়ে ছিলেন, খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে এসে ভর্তিকৃত আহত শিক্ষার্থীদের খবর নেন। তিনি বলেন ভয় পেয়ে দুইজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারান, ইমাকে কে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে রাবেয়াকে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
কর্মরত চিকিৎসক ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থী দু জনেই হিসটিরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের রোগি অতিরিক্ত
ভয়, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অনেক সময় পরেও জ্ঞান না ফেরায় ইমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাবেয়া আক্তার মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, ৬ ঘন্টা ধরে সে অজ্ঞান অবস্থায় আছে তার চিকিৎসা চলছে। তাকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।