আবু সায়েমমহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে পুনঃস্থাপনের এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৬ ডিসেম্বর সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তীতে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের রক্তঝরা ইতিহাস, ত্যাগ ও বিজয়ের মাহাত্ম্য নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মুর্শেদা খাতুন তাঁর বক্তব্যে
বলেন, বিজয় দিবস শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার
চেতনার প্রতীক। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ—সাম্য, মানবিকতা
ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সকলকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি নিয়ামতপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা রক্ষাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস জানার মাধ্যমে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক,
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল শিশু-কিশোর, নারী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ, যা প্রমাণ করে যে বিজয় দিবস এখনও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে গভীর আবেগ ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে আছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়। এতে দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিজয়ের আনন্দ তুলে ধরা হয়। স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের এমন আয়োজন জাতীয় দিবস পালনের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসমুখী করে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে, যা একটি গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়ামতপুর উপজেলায় ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে আরও একবার উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছে।
মন্তব্য করুন