সেলিম আহম্মেদ
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব রাসমেলা, গত কাল সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো তীর্থযাত্রী, সন্ন্যাসী ও ভক্তরা জড়ো হতে শুরু করেন এই নির্জন চরে
তীর্থযাত্রীরা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে দুবলার চরে পৌঁছেছেন ভক্তদের কেউ এসেছেন পুণ্যস্নান, কেউ পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার জন্য
উৎসব উপলক্ষে বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা,তীর্থযাত্রীদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং দোকানপাট
তিন দিনব্যাপী এই রাস উৎসবের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পূজার প্রস্তুতি ও পুণ্যস্নান। দ্বিতীয় দিনে হবে মূল রাস পূজা ও আরাধনা, আর শেষ দিনে ভক্তদের বিদায় ও সমাপনী অনুষ্ঠান
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে চলে আসা দুবলার চরের রাসমেলা এখন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় এটি সুন্দরবনাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে
উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত হলো সকালের পুণ্যস্নান, যেখানে হাজারো ভক্ত একসঙ্গে সাগরের জলে পা ডুবিয়ে শান্তি ও কল্যাণের প্রার্থনা করেন
বনবিভাগের সূত্র জানায়, এবারের রাসমেলায় পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ নজরদারি চলছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ নৌযান চলাচলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, দুবলার চরের রাসমেলা-ধর্মীয় ভক্তি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে প্রতি বছরই নতুন মাত্রা যোগ করছে সুন্দরবনের এই উৎসবে।