মোঃ মোশারফ হোসেন
পাহাড়, নদী ও সমুদ্রের মিলনে খুঁজে পান নতুন সৃষ্টির দিগন্ত
১৯২৯ সালের এক বর্ষাস্নাত বিকেল। চট্টগ্রামের পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত নির্জন প্রকৃতির কোলে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কাটাচ্ছিলেন তাঁর জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। বিদ্রোহী কবি তখন চট্টগ্রামের পাহাড়, ঝর্ণা ও সাগরের মায়াবী সৌন্দর্যে খুঁজে পেয়েছিলেন নতুন সৃষ্টির প্রেরণা।
ঝর্ণার ধারে বসে কবি মগ্ন ছিলেন গভীর চিন্তায়। পাশে ছিলেন কয়েকজন কাব্যপ্রীত বন্ধু— কেউ গিটারসদৃশ তবলায় টোকা দিচ্ছিলেন, কেউবা খাতায় লিখছিলেন নতুন কবিতার পঙ্ক্তি। প্রকৃতিও যেন তার সঙ্গী ছিল— কখনো ঝরনার কলধ্বনি, কখনো পাহাড়ি বাতাসের ফিসফিসে সুর।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠতে গিয়ে নজরুল এক মজার ঘটনার মুখোমুখি হন। পাহাড়ের গা বেয়ে নামার সময় জোঁক লেগে গেলে তিনি হেসে বলেন, “এই জোঁকেরাও জানে, কবির রক্তে আগুন আছে, তাই হয়তো এমন তৃষ্ণা!” বন্ধুরা হাসতে হাসতেই কবিকে কাঁধে তুলে নিচে নামান।
পরে সাম্পানে চড়ে কবি রওনা হন সন্দ্বীপের পথে। সাগরের বুকে বসেই তিনি লেখেন— “বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি”। চট্টগ্রামের সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই তাঁকে অনুপ্রাণিত করে রচনা করতে ‘দূর দ্বীপবাসিনী’, ‘গোপন প্রিয়া’ ও ‘শারাবান তহুরা’-র মতো কালজয়ী কবিতা।
চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী ও সমুদ্রের সংমিশ্রণ নজরুলের ভাবনা ও বিদ্রোহকে আরও সজীব করে তুলেছিল। কর্ণফুলীর জলে তিনি দেখেছিলেন স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি, পতেঙ্গার বালুকায় খুঁজেছিলেন জীবনের ছন্দ।
চট্টগ্রাম কবি নজরুলের সৃষ্টিজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে আছে— যেখানে প্রকৃতি, প্রেরণা ও কবিতার মিলন ঘটেছিল এক অনন্য সুরে।