শামীম ইসলাম শামীম
জয়পুরহাটে র্যাবের অভিযানে মাদকসহ দুই নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের একজনের কোলে ছিল তিন মাস বয়সী শিশু মুসকান। মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে মাকে কারাগারে পাঠানো হলে, কোলের শিশু মুসকানকেও তার মায়ের সঙ্গেই কারাগারে যেতে হয়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার হাস্তাবসন্তপুর মহল্লায় অভিযান চালিয়ে ৭৯২ পিস নিষিদ্ধ ইনজেকশন অ্যাম্পুলসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের মুনসুর হোসেনের স্ত্রী ফাহিমা বেগম (৩৫) ও তার শাশুড়ি মোমেনা বেগম।
র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, হাস্তাবসন্তপুর এলাকায় কিছু নারী মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।”
আটকের সময় ফাহিমার কোলে ছিল তার তিন মাস পাঁচ দিন বয়সী কন্যা শিশু মুসকান। শিশুটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে মাকে কাঁদতে দেখা যায়। পরবর্তীতে ফাহিমা ও তার শাশুড়িকে থানায় সোপর্দ করে র্যাব। তাদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
বুধবার দুপুরে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে দুজনকেই কারাগারে প্রেরণ করে। মায়ের কোলে থাকা ছোট্ট মুসকানকেও আইন অনুযায়ী মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ফাহিমা ও মোমেনা কিছুদিন ধরে এলাকায় মাদক বেচাকেনায় জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে, তবে শিশুটির কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “র্যাবের হাতে আটক দুই নারীর বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কারণ তার বয়স খুব কম।”
মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন
এ ঘটনায় মানবিক প্রশ্ন উঠেছে— মাত্র তিন মাসের একটি শিশুকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া কতটা সঙ্গত? সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, “মাদক অপরাধে জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত, তবে শিশুদের যেন এমন কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”
এ ঘটনাটি এখন জয়পুরহাটের সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু — মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতা যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।