মো আমিনুল ইসলাম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্টিল ব্রিজ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত তিন গ্রামের মানুষ। উপজেলার সাপলেজা–বাবু বাজার সড়ক থেকে সুফি সাহেব হুজুর বাড়িগামী সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর ভরসা ছিল একটি বিকল্প স্টিল ব্রিজ। তবে সেই স্টিল ব্রিজটিও এখন ঝাঁঝরা ও চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ব্রিজ ব্যবহার করে প্রতিদিন কচুবাড়িয়া, ভাইজোড়া ও খেঁতাছিড়া গ্রামের মানুষসহ বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটিই সাপলেজা নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র পথ। পাশাপাশি সাপলেজা মডেল হাই স্কুল, লায়লা মালেকিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হতে হয়।
অভিভাবকদের দাবি, বৃষ্টির সময় কিংবা রাতে শিক্ষার্থীদের ব্রিজ পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। ফলে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
একজন অভিভাবক বলেন,
“ব্রিজটা এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, বাচ্চাদের পাঠাতে ভয় লাগে। কিন্তু বিকল্প কোনো পথ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে এখানে একটি নতুন স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজ মিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে এই এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলি হয়েছেন সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, স্টিল ব্রিজটি ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ভারী যান চলাচল। বিশেষ করে ‘মক্কা ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটার ইটবোঝাই পিকআপ ও ট্রাক নিয়মিত এই ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করে।
প্রতিদিন কয়েক লাখ ইট এই ব্রিজ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর। ফলে ব্রিজটির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং লোহার পাতগুলো ক্ষয়ে গেছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“এই ব্রিজে ভারী গাড়ি চলার কথা নয়। কিন্তু ইটবোঝাই পিকআপ দিনের পর দিন চলাচল করায় এখন ব্রিজটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মক্কা ব্রিকস ইটভাটাটি প্রতিবছর ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার মুখে পড়লেও পরে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে পুনরায় কার্যক্রম চালু করে। ফলে একদিকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, অবিলম্বে ভারী যান চলাচল বন্ধ না করা হলে ব্রিজটি যে কোনো সময় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুব হোসেন বলেন,
“স্টিল ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে।”
অন্যদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম জানান,
“এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে এলে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসী মনে করছেন, শুধু আশ্বাসে সমস্যার সমাধান হবে না। দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ এবং ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করা হলে বড় দুর্ঘটনা অনিবার্য।
তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কার, ইটভাটার ভারী যান চলাচল বন্ধ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।