পল্টনের শহীদদের শোকে-ক্রোধে উত্তাল সীতাকুণ্ডের রাজপথ
আজ, রক্তস্নাত ২৮ অক্টোবরের সেই বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্তি। লগি-বৈঠার আঘাতে সেদিন বাংলার জমিন রঞ্জিত হয়েছিল যে রক্তের ধারায়, সেই শহীদি কাফেলার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে আজ সীতাকুণ্ডের ঘুমন্ত জনপদ জেগে উঠল শোকে ও প্রতিবাদে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ডাকে, প্রতিবাদী জনতা যেন আজ তাদের হৃদয়ের সব ক্ষোভ আর সংকল্প নিয়ে নেমে এসেছিল রাজপথে। ছিল না কোনো ভয়, ছিল কেবলই এক সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা—শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার সংকল্প।

গণ-আদালতের হুঙ্কার
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানের ইস্পাত-কঠিন সভাপতিত্বে এবং সাবেক কমিশনার ও উপজেলা সেক্রেটারি মু. তাহেরের জ্বালাময়ী সঞ্চালনায় এই সমাবেশ পরিণত হয়েছিল এক স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আদালতে, যেখানে খুনিদের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে গর্জে উঠেছিল হাজারো কণ্ঠ।
প্রধান অতিথি, প্রতিবাদের মশাল:
প্রধান অতিথি, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জনাব আব্দুল জব্বার, আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
> “ইতিহাস সাক্ষী—২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডব ছিল শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, তা ছিল বাংলার বুকে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার এক পৈশাচিক আয়োজন। সেদিন যারা খুনি হাসিনাকে মদদ যুগিয়েছিল, তাদের হাত আজও আমাদের ভাইদের রক্তে রঞ্জিত। আমরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাই, এবং এই জালেম সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করি—অবিলম্বে সেই চিহ্নিত খুনীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করুন, নতুবা জনতার আদালত একদিন আপনাদের ক্ষমা করবে না!”
>
বিশেষ অতিথিদের অগ্নি-বর্ষণ:
সীতাকুণ্ড-৪ আসনের এমপি প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী এবং উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন আজাদও তাদের বক্তব্যে খুনিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

সংকল্পবদ্ধ জনতার প্রতিধ্বনি
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর রাশেদুজ্জামান মজুমদার, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মু. কুতুব উদ্দিন শিবলী (সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে যার কন্ঠ ছিল অত্যন্ত ক্ষুরধার), এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এড. আশ্রাফুর রহমান সহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে শপথ নেন, "খুনি হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে বাংলার জমিন থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে হবে।"

মিছিল: রাজপথের ক্যানভাসে প্রতিবাদের ছবি
সমাবেশ শেষে, সীতাকুণ্ডের প্রধান সড়ক ধরে বেরিয়ে আসে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল। প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল দৃঢ়তা, প্রতিটি স্লোগানে ছিল প্রতিশোধের আগুন। কালো পতাকার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল লগি-বৈঠার প্রতীকী কফিন, যা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং খুনিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছিল।
এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সীতাকুণ্ডের জনগণ এক ঐতিহাসিক বার্তা দিল—২৮ অক্টোবরের রক্তের দাগ মুছতে হলে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।