মোঃ আবুসুফিয়ান তালুকদার
সিরাজগঞ্জের সলংগা থানার এরোন্দা গ্রাম যেন এখন প্রকৃতির আঁকা এক হলুদ ক্যানভাস। চোখ যতদূর যায়, শুধু সরিষার হলুদ ফুল আর ফুল—পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খেতে খেতে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য সৌন্দর্যের রাজ্য। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে গাঢ় হলুদের এই সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমীদের যেমন মুগ্ধ করছে, তেমনি ব্যস্ত করে তুলেছে মৌচাষিদের।
নরম ও উর্বর মাটিতে কৃষকের যত্নে বেড়ে ওঠা সরিষা ক্ষেত এখন প্রাণবন্ত। মৃদু বাতাসে তিরতির করে কেঁপে ওঠা ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছি ও প্রজাপতি। তাদের অবিরাম আনাগোনায় গ্রামীণ পরিবেশ হয়ে উঠেছে আরও মনোরম ও জীবন্ত।
দিন দিন দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা বাড়ায় সলংগা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা চাষের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরোন্দা গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জমি সরিষা আবাদে উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন বেশি। সরিষা আবাদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমী মৌমাছির তৎপরতাও বেড়েছে বহুগুণ। ফলে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে মাঠে নেমেছেন অভিজ্ঞ মৌচাষিরা।
সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি সারি কাঠ ও স্টিলের তৈরি বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। মৌমাছিরা ফুল থেকে ফুলে উড়ে মধু সংগ্রহ করে ফিরে এসে বাক্সে জমা করছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এভাবে মধু আহরণ কার্যক্রম চলছে।
সলংগা থানা এরোন্দা গ্রামের সরিষা খেতে মৌচাষি মো. শামীম বেশ কয়েকটি বাক্স স্থাপন করেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি বাক্সের ভেতরে সাতটি কাঠের ফ্রেম থাকে, যেখানে মোম দিয়ে তৈরি বিশেষ সিট লাগানো হয়। বাক্সগুলো কালো পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো থাকে এবং ভেতরে রাখা হয় রানী মৌমাছি। এসব মৌমাছিই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করে।
মৌচাষি মো. শামীম আরও জানান, চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে সরিষার ফুল থেকে কয়েক দফা মধু আহরণ করা হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মধু সংগ্রহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে তিনি ২০ থেকে ২৫ মণ পর্যন্ত মধু সংগ্রহের আশা করছেন।
সরিষার হলুদ ফুলে মোড়া এরোন্দা গ্রামের এই দৃশ্য শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার আলো—যেখানে কৃষি ও মধুচাষ একসঙ্গে গড়ে তুলছে জীবিকার নতুন দিগন্ত।