মোঃ মশিউর রহমান
বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনভুবনে এক অসামান্য প্রতিভার নাম— মোজাহিদ ইফতেখার হাবিব। সনেট, গল্প, নাটক, আবৃত্তি, সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্রযোজনার প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন ব্যতিক্রমী দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির বিস্ময়কর সমন্বয়। বহুমাত্রিকতা যেন তার পরিচয়, আর সৃজনশীলতাই তার অদম্য শক্তি।
শৈশবেই সৃজনশীলতার বীজ
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার দৌলতপুর নতুন বাজারে জন্ম নেওয়া হাবিব ইফতেখার পিতা আলহাজ্ব মনসুর উর রহমান ও মাতা আলহাজ্ব মরিয়ম নেসারের স্নেহে বেড়ে ওঠেন। প্রাথমিক জীবন থেকেই কল্পনাশক্তি, জ্ঞানপিপাসা ও অনুসন্ধিৎসা তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে। বই, শিল্প, প্রকৃতি—সবকিছুর প্রতি ছিল তার গভীর মমত্ব।
বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী, শিল্পমনস্ক মানুষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণীবিদ্যায় মাস্টার্স সম্পন্ন করলেও তার মন ছিল শিল্প-সাহিত্যের টানে সমানভাবে উন্মুখ। বিজ্ঞান তাঁকে দিয়েছে বিশ্লেষণধর্মী মানস, আর সাহিত্য দিয়েছে মানবিক ও নন্দনবোধের সমৃদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি—এই দুই ধারার মেলবন্ধন তাকে করেছে আরও পরিপক্ব ও বৈচিত্র্যময়।
গণমাধ্যমে দূরদৃষ্টি ও দৃপ্ত নেতৃত্ব
এমকে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান
গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছাপ রাখতে সক্ষম হাবিব ইফতেখার। এমকে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া, মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরির অঙ্গীকার এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিচ্ছেন।
নির্ভীক সাংবাদিক ও দক্ষ উপস্থাপক
সংবাদ উপস্থাপন, টকশো সঞ্চালনা ও মাঠের প্রতিবেদন—সব ক্ষেত্রেই তার দৃঢ়তা, স্পষ্টভাষী বিশ্লেষণ ও গবেষণানির্ভর বক্তব্য দর্শকের আস্থা অর্জন করেছে। মানুষের কথা বলা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এটাই তার সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।
বাংলা সনেটে নবরূপ স্রষ্টা
বাংলা সাহিত্যে সনেট রচনায় তিনি এনেছেন গঠন ও ধ্বনিচিত্রে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তার সনেটে—
ভাবের গভীরতা,
শৈল্পিক ভাষার মাধুর্য
এবং সমকালীন বাস্তবতার সূক্ষ্ম অনুরণন
পাঠককে মুগ্ধ করে। তাকে সম্মানিত পাঠকমন্ডলী বিবেচনা করেন বাংলা আধুনিক সনেটচর্চার অন্যতম নতুন ধারা নির্মাতা হিসেবে।
গল্প ও প্রবন্ধে মানবিকতার দীপ্ত ছাপ
মানুষ, সমাজ ও মূল্যবোধ—এই ত্রিবিধ স্তম্ভকে কেন্দ্র করে তার গল্প ও প্রবন্ধ রচিত। সমসাময়িক সংকট, মানবিকতা ও জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলো তার লেখায় প্রাণ পায়। পাঠকের চিন্তা ও উপলব্ধিকে নাড়া দেওয়ার মতো গভীরতা রয়েছে প্রতিটি শব্দে।
নাট্যকার ও আবৃত্তিকার হিসেবে পরিপূর্ণ শিল্পী
মঞ্চ, রেডিও ও ভিডিও—সব মাধ্যমেই তার আবৃত্তি সমাদৃত। স্বর, ছন্দ, আবেগ ও উচ্চারণশৈলীতে তিনি রাখেন ভিন্নমাত্রার ছাপ। নাট্যরচনায়ও তিনি সৃজন করেছেন সমাজবোধ ও সৃষ্টিশীলতার মেলবন্ধন।
প্রযুক্তিজ্ঞান: সৃজনশীলতার সাথে আধুনিকতার যুগলবন্দি
অডিও ও ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল প্রোডাকশন এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নির্মাণে তার দক্ষতা তাকে নিয়ে গেছে সমসাময়িক গণমাধ্যমের শীর্ষ সারিতে। প্রযুক্তিকে সৃজনশীলতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নিত্যনতুন কাজ উপহার দিচ্ছেন।
মানবিক উদ্যোগে নিবেদিত প্রাণ
ব্যক্তিগত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সমাজসেবা, বিশেষত এতিমদের কল্যাণে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। মানবতার প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ তার ব্যক্তিত্বকে করেছে আরও উজ্জ্বল, আরও প্রশংসনীয়।
উপসংহার
মোজাহিদ ইফতেখার হাবিব—একটি নাম, যার ভেতর সমবেত হয়েছে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও মানবিকতার উজ্জ্বল সমাবেশ।
তিনি শুধু একজন কবি নন, শুধু সাংবাদিক নন—
তিনি এক বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্মী,
যিনি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখান, সাহস দেন, পথ দেখান।
বাংলার সৃজনভূমি তার মতো সৃষ্টিশীল মানুষের অবদানে আরও সমৃদ্ধ, আরও আলোকিত হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন