সেলিম হোসেন
বগুড়ার শাজাহানপুরে দোকান নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার ছেলে ও ভাগিনার ওপর হামলা, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতদের মা মোছাঃ শিল্পী বেগম (৩৭) শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিল্পী বেগমের ছেলে মোঃ রাকিব হাসান ও ভাগিনা মোঃ তানজিম হাসান রবিউল যৌথভাবে আড়িয়া বাজারের বিশ্বরোডের পূর্ব পাশে মাছ হাটি সংলগ্ন স্থানে একটি সবজির দোকান পরিচালনা করেন।
গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর ১২টার দিকে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় বিবাদী মোঃ আঃ সামাদ দোকানের সামনে সিএনজি রাখেন। এতে তানজিম তাকে অন্যত্র গাড়ি রাখতে অনুরোধ করেন। এতেই সামাদ ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে তিনি দোকানে থাকা সবজি কাটার চাকু নিয়ে তানজিমের গলায় ধরেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি তানজিমকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারেন।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে সামাদ চাকু দিয়ে তানজিমের গলায় আঘাত করতে গেলে রাকিব প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে। এতে রাকিবের বাম হাতের শাহাদত ও মধ্যমা আঙুলে গুরুতর কাটা জখম হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর বিবাদী রাকিবকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন।
স্থানীয় লোকজনের চিৎকারে এগিয়ে আসলে সামাদ আরও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বাড়াবাড়ি করলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলব। পরে আহত রাকিবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
এদিকে, শিল্পী বেগম ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর বিবাদী সামাদ পুনরায় তার ছেলে সৌরভসহ অন্য বিবাদীদের নিয়ে দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে। পাশাপাশি তানজিমকে বাজারে দেখা গেলে খুন করার হুমকি দেয়।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস, ফেরদাউস, রবিউল, জহুরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মঞ্জুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি দেখেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে দেরিতে হলেও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
শিল্পী বেগম থানায় দাখিলকৃত অভিযোগে বিবাদীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।