সৌমিত্র কুমার দাস
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী গ্রামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম ফাহিমা আক্তার (২৫)। এ ঘটনায় মৃত্যুটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইকরতলী গ্রামের পন্ডিত মিয়ার বসতঘর থেকে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফাহিমার বাবা সুন্দরপুর গ্রামের নুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে তার স্বামী সুজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।”
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাহিমার স্বামী সুজনের বিরুদ্ধে পরকীয়া সম্পর্ক ও যৌতুক দাবির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার ফাহিমাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার। বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্থানীয় মুরুব্বিয়ানদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
তবে নিহতের শাশুড়ি আংগুরা খাতুন দাবি করেন, ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাটি হয়নি। তিনি বলেন, “বিকেলবেলা ফাহিমা তার শয়ন কক্ষে ছিল। সন্ধ্যার আগে তার ৭ বছরের ছেলে জিহাদ মাকে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি ফাহিমার লাশ ঝুলছে।”
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং চুনারুঘাট থানায় খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে চুনারুঘাট থানার এসআই আক্তার হোসেন-এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ফাহিমার স্বামী সুজন পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল চুনারুঘাট থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।