জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার যুগ্ন সমন্বয়কারী মেহেদী নুর হেলাল দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দীর্ঘদিন ধরে আমি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গোয়ালন্দ উপজেলা কমিটির একজন যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। এই পথচলায় দলীয় নেতৃবৃন্দ, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে 'কৃতজ্ঞ'। রাজনীতি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল এবং এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বর্তমানে জামায়াতের সাথে জোট ও প্রতারিত হওয়ার কারণে আমাকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পারিবারিক দায়িত্ব ও পরিস্থিতিকে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি।
অতএব, আমি মেহেদী নূর হেলাল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গোয়ালন্দ উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী পদসহ দলের সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। এই সিদ্ধান্তটি কোনো আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং অনেক ভেবেচিন্তে ও বাস্তবতার নিরিখে নেওয়া। দলীয় স্বার্থে যত কিছু আমি বলেছি তা আমি তুলে নিচ্ছি আর দেশের স্বার্থে যা কিছু বলেছি তাতে আমি অটুট।
ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না থাকলেও দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে সবসময় ইতিবাচক চিন্তা ও শুভকামনা থাকবে। সবার জন্য দোয়া ও শুভেচ্ছা রইল।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী এ্যাড. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মেহেদী নূর হেলালের এই সিদ্ধান্ত তার একান্তই ব্যাক্তিগত। এনসিপি’র সকল নেতা-কর্মী যে কোন বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে। এনসিপি গনতান্ত্রীক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। দলের সকল সিদ্ধান্তও গণতান্ত্রীক উপায়ে গ্রহন করা হয়।