মোঃ রাতুল হাসান লিমন
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতীক ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আবারও এসেছে বাংলাদেশে। বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানো সোনালি ট্রফিটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশের জন্য আবারও আনন্দের খবর। ফিফা বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ট্রফি, যা সর্বশেষ লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকায় এসে পৌঁছায়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রফিটি রাখা হবে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে। এ সময় ট্রফির সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় উপস্থিত হয়েছেন ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সাবেক মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।
ফিফা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে বিশ্বভ্রমণ শুরু করেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সৌদি আরব দিয়ে শুরু হওয়া এই সফরে ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের মোট ৭৫টি গন্তব্যে প্রদর্শিত হবে। পুরো কার্যক্রম চলবে প্রায় ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে বুধবার দুপুরের পর থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক আমন্ত্রিত দর্শকের জন্য ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার ও দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনীর সুযোগ সীমিত থাকছে।
এর আগে গেল ২৪ বছরে চারবার বাংলাদেশে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। প্রথমবার ২০০২ সালে ঢাকায় ট্রফি প্রদর্শিত হলে সেটিই ছিল দেশের মানুষের জন্য বিশ্বকাপ ট্রফিকে কাছ থেকে দেখার প্রথম অভিজ্ঞতা। সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সেই প্রদর্শনী আজও স্মরণীয় হয়ে আছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
২০১৩ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে দ্বিতীয়বার ট্রফি আসার সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভক্তদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। কাঁচের বাক্সে সংরক্ষিত ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলাই ছিল তখনকার দর্শকদের বড় প্রাপ্তি।
সবচেয়ে বড় আয়োজন হয়েছিল ২০২২ সালে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই প্রদর্শনী ও কনসার্টে রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল পুরো এলাকা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ ফরাসি কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ান কারেম্বুর হাত ধরে আসা ট্রফি দেখতে ভিড় করেন। ওই সফরে ট্রফিটি বঙ্গভবন ও গণভবনেও প্রদর্শিত হয়।
ফিফার বিধি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ট্রফিতে কেবল বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের স্পর্শ করার অনুমতি রয়েছে। সাধারণ দর্শকরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ট্রফিটি দেখার সুযোগ পান।