মোয়াজ উদ্দিনমাত্র কয়েকদিন আগেও আমরা ভেনিজুয়েলার সামরিক মহড়ায় শুনেছি, “দেশের জন্য জীবন দিব তবুও আমেরিকার কাছে মাথা নত করবো না।”
সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক সবাইকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
কিন্তু বাস্তবে কি ঘটলো?
কয়েকজন সেনা নিয়ে একটি অস্ত্রে সুসজ্জিত হেলিকপ্টার আসলো আর প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। কোনো দৃশ্যমান প্রতিরোধ নেই।
এটা কি শুধুই দেশের দুর্বলতা?
না!
এটা ছিল সামরিক বাহিনী ও ইন্টেলিজেন্সের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতকতার ফল।
ইতিহাস বলে, যে রাষ্ট্র ভেতর থেকে ভাঙে, তাকে বাহির থেকে ধাক্কা দিতে হয় না।
এখন আসুন, আমাদের নিজেদের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই। আমাদের বারবার শেখানো হয়েছে “পাশের দেশ আমাদের বন্ধু।”
কিন্তু ইতিহাস বলে, পাশের রাষ্ট্র কখনো বন্ধু হয়না বরং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়। পাশের রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় পাশের দেশকেই কাউন্টার দেওয়ার জন্য।
আজ বাংলাদেশ নতুন অস্ত্র কিনছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিক করছে।
প্রশ্ন একটাই: কাকে কেন্দ্র করে?
কিন্তু যদি সেই শক্তির ভেতরেই ঘাপটি মেরে থাকা ঘাতকেরা শত্রুর সাথে হাত মেলায় তাহলে হাজার কোটি টাকার অস্ত্র দিয়েও দেশকে নিরাপদ রাখা যাবে না।
ভেনিজুয়েলার মতোই অস্ত্র থাকবে কিন্তু ব্যবহার হবে না। ১৭৫৭, ১৯৭১ আর পিলখানার ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে বিশ্বাসঘাতকরা দূরে নয়, কাছেই থাকে।
এই জন্যই ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, অস্ত্র দরকার কিন্তু তার চেয়েও বেশি দরকার বিশ্বস্ত মানুষ। এই দেশটা কোনো দলের নয়। দেশটা আমার, আপনার, সম্মিলিত ভাবে আমাদের।
মন্তব্য করুন