মোঃ গোলাম জাকারিয়া
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা 'নতুন কুঁড়ি ২০২৫' –এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঋদ্ধি।
বুধবার প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে গল্প বলা বিভাগে ক শাখায় প্রথম হয়েছে ঋদ্ধি। ঋদ্ধি ও তার অভিভাবকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ টেলিভিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। সারাদেশের সেরা পাঁচ জন প্রতিযোগীর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।
এর আগে গল্প বলা বিভাগে ক শাখায় চুড়ান্ত বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সেরা দশে উঠে এসেছিল ঋদ্ধি। এরপর গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে সে সেরা পাঁচে উঠে আসে।
ঋদ্ধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। আত্মবিশ্বাসী ঋদ্ধি তার এই বিজয়ে তার মায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি তার বাবা হাসান আলম এ্যানির উৎসাহের কথাও জানায় চাঁপাই লাইভকে। তার মা সায়মা রওশন নূরী সন্ধ্যা নিজের হাতেই গড়ে তুলছেন মেয়েকে। তিনি বলেন, গল্প বলার চর্চা নিজেই করিয়েছেন মেয়েকে। তিনি তাকে আবৃত্তির চর্চাও করান। ঋদ্ধি ইতোপূর্বে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০২৩ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২২ ও ২০২৩ এ ক বিভাগের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল।
এছাড়াও উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের এবং স্থানীয় পর্যায়ের নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্ধ শতাধিক পুরস্কার ও সনদ পেয়েছে।
ঋদ্ধি জানায়, পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়ে নাচ, গান ও আবৃত্তির চর্চা করে। সে বাসায় মায়ের কাছে ক্লাসের পড়াশোনা, কবিতা আবৃত্তি ও গল্প বলার চর্চা করে। আর গান ও নাচ চর্চা করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, মূর্চ্ছনা সঙ্গীত নিকেতনসহ অন্য শিক্ষকের কাছে।
ঋদ্ধির পিতা হাসান আলম এ্যানি বহুজাতিক কোম্পানি ওয়ালটনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সার্ভিস সেন্টারের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আর মা সায়মা রওশন নূরী সন্ধ্যা একজন শিক্ষক। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাঁদের উৎসাহের কমতি নেই।
ঋদ্ধির বিদ্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুল এর উপাধ্যক্ষ মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, রোহিনী হাসান ঋদ্ধি আমাদের স্কুলের গর্ব। সে যে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে এটা সত্যিই আনন্দের বিষয়। শুধু তাই-ই নয়, ঋদ্ধি আমাদের বিদ্যালয় এমনকি পুরো জেলার শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা বলে আমি মনে করি। তার জন্য শিক্ষকদের শুভ কামনা থাকবে সব সময়।
উপাধ্যক্ষ আরও বলেন, এই ধরণের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা-মননের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নতুন কুঁড়ি আয়োজকদেরও ধন্যবাদ জানায়।