মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম
টাঙ্গাইলের সখিপুরে মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পৌরশহরের তালতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এ কর্মসূচির আয়োজন করে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ঘেঁষে উত্তর পাশে একতলা একটি দোকানের জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে করা মামলার একতরফা তদন্তের প্রতিবাদে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে কমপক্ষে তিন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। এ সময় সখিপুর-ঢাকা ও সখিপুর-সাগরদিঘী সড়কে যানজট তৈরি হয়। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি এ ঘটনার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন গুর্খার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
মামলার নথি ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী আবদুল আজিজ তালুকদার সখিপুর মৌজার ১০৮ নং দাগের ১ শতাংশ জমির মালিকানা দাবিতে টাঙ্গাইলের সখিপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। বাদী ওই ১ শতাংশ জমির ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে আদালত সিভিল কোর্ট কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সিভিল কোর্ট কমিশনার আবদুল লতিফ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ জানুয়ারি সরেজমিন তদন্তে সখিপুর আসেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু বলেন, বাদীপক্ষের দলিল মূলে প্রাপ্ত ১শতাংশ জমিতে থাকা পাকাভবনটিতে ভাড়ায় চালাচ্ছেন। বাদীর বড়ভাই আওয়ামী এমপি থাকাকালীন সময় থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের এই পাকা ভবনের দোকান ঘরটি দখলের চেষ্টা করছেন। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত সত্যতা বের হয়ে আসবে। তদন্ত কর্মকর্তা সখিপুরে এসে বাদীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে চলে গেছেন। কেনো তদন্ত করেনি ওই তিনি। আমরা ওই কর্মকর্তার বিচার ও শাস্তি দাবি করছি।
মামলার বাদী আবদুল আজিজ তালুকদার জানান, দলিল মূলে ওই জমির ছিলেন আমার বাবা। উত্তরাধিকার সূত্রে ভবনের মালিকও আমরা। জমির মালিকানা আছে বলেই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন গুর্খা বলেন, আমরা শামসুল হক ও আলম মিয়ার কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ করেছি। কমপ্লেক্স ভবন লাগোয়া দোকান ঘরটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। বাদীপক্ষ একই দাগের ভিন্ন খতিয়ান থেকে জমি কিনে তারাও পাকা ভবন নির্মাণ করে দখলে বিদ্যমান রয়েছে। এ ভবনটি বাদীপক্ষ কৌশলে জবরদখলের পায়তারা করছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিভিল কোর্ট কমিশনার আবদুল লতিফ তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে সমকালকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রশাসক ও ইউএনও আবদুল্লাহ আল রনী স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় থাকবে — এটা হতে পারে না। প্রয়োজনে ডিসি স্যারকে অবগত করা হবে।