সেলিম আহম্মেদ
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ৬ ডিসেম্বর পালন করা হয় ঐতিহাসিক মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিকামী বীর সেনানীদের সম্মুখ প্রতিরোধে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যায়। দেবহাটা উপজেলা মুক্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের মুখে বিজয়ের হাসি ফুটে ওঠে।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে দিনটি স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সকালে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেবহাটা ছিল ৯ নং সেক্টরের অংশ। সাতক্ষীরা কোর্ট চত্বরের ট্রেজারীর ৪শত রাইফেল লুট করে তৎকালীন সময়ে আবদুল গফুর, এম. এল. এ. আয়ুব হোসেন ও ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার জীবন বাজি রেখে ৯ নং সেক্টর গঠন করেন। এই সেক্টরের তিনটি সাব-সেক্টর ছিল শমসেরনগর (নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা), হেঙ্গলগঞ্জ ও ভারতের টাকী (নেতৃত্বে মরহুম ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার)। ৯ নং সেক্টর ছিল দেশের ১১টি সেক্টরের মধ্যে সর্ববৃহৎ।
শাহজাহান মাস্টারের নেতৃত্বে দেবহাটার যুবকেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তখন দেবহাটায় পাক সেনারা খানজিয়া, দেবহাটা, টাউনশ্রীপুর, সখিপুর, পারুলিয়া, কুলিয়া ও পুষ্পকাটি ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘাঁটি গড়ে তোলে।
টাউনশ্রীপুর ফুটবল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাক সেনাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। পাক সেনারা চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে। ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টার অসীম সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন এবং প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী যুদ্ধে পাক সেনারা পরাজিত হয়।
এ সময় ভাতশালা ও অন্যান্য এলাকায়ও তিনি নেতৃত্ব দেন। তবে ভাতশালা যুদ্ধের শেষের দিকে একটি বুলেট মুক্তিযোদ্ধা গোলজারের মাথায় লাগে, তিনি নিহত হন।এক পর্যায়ে টাউনশ্রীপুর সেনা ঘাটি পতিত হলেও প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি. ওসমানী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ও সেক্টর কমান্ডার এম.এ. জলিল মিলিতভাবে শাহজাহান মাস্টারের নেতৃত্বে বিজয় উদযাপন করেন। পাকিস্তানি সেনারা বের হয়ে যাওয়ার সময় তার বাড়ি আগুনে ভস্মীভূত করে।
অক্টোবর মাসে পাক সেনারা খাঁনজিয়া ক্যাম্প ছেড়ে পালায়। তারা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে এ.পি. মাইন ফেলে যায়, অপসারণের সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব শহীদ হন। পরে পারুলিয়া, সখিপুর ও কুলিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনারা পরাস্ত হয়। তাদের পলায়নের সময় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস ও পারুলিয়া ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দেবহাটা উপজেলা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয় এবং মুক্তিকামীদের হাতে উড়তে শুরু করে বিজয়ের পতাকা।