জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 25-নভেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা, তরুণ সাংবাদিকের মহৎ উদ্যোগ বৃক্ষায়ন

ফয়ছল আহমদ নুমান।।

 
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শাপলা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন আরো উপভোগ্য। স্থানীয় সাংবাদিক রেজওয়ান করিম সাব্বির এর নেতৃত্বে গৃহীত তরুছায়া বনায়ন প্রকল্প। এই বিলে আগত সকল পর্যটকের জন্য নতুন এক মাত্রা যোগ করেছেন। ২০১৭ সনের কথা যেখানে প্রখর রোদ বা কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা কষ্টসাধ্য ছিল। সাংবাদিক সাব্বিরের দূরদর্শী চিন্তাধারার ফলে এখন লাল শাপলা বিলে ছায়া ঢাকা নির্মল পরিবেশের আওতায় আগত দেশী বিদেশী পর্যটকরা শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন দীর্ঘ সময় ধরে। তরুছায়া প্রকল্পে স্থানীয় শ্রমজীবী, দিনমজুর, কৃষক, চাকরিজীবী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষজন অংশগ্রহণ বৃক্ষায়ণ করা হয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শাপলা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিকাশের পাশাপাশি একটি মনোরম পর্যটন স্থানে পরিণত হচ্ছে। এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। স্থানীয়রাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি হওয়ায় আনন্দিত। 

তবে সম্প্রতি কিছু চক্র শাপলা বিলের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের অপপ্রচারকে উপেক্ষা করে, সাংবাদিক রেজওয়ান করিম সাব্বির তার এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলকে এই বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে শাপলা বিলের সৌন্দর্য অটুট থাকে এবং ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

সাংবাদিক রেজওয়ান করিম সাব্বির বলেন, ২০১৫ সনে আমাদের মাধ্যমে জৈন্তাপুর উপজেলার ৪টি বিল নিয়ে স্বচিত্র ডকুমেন্টারী সংবাদ প্রকাশ করে চ্যানেল ২৪, এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ট জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো। তারা লাল শাপলা বিলকে প্রমোট করতে প্রথম পৃষ্ঠাকে মলাট হিসাবে তুলে ধরে। পাশাপাশি দেশের ৮০% জাতীয় পত্রিকা সহ টিভি চ্যানেল সংবাদটি প্রচার করে। এই সময়ে লাল শাপলা বিলের রাস্থায় কোন প্রকার গাছ-গাছালী ছিল না। প্রখর রোধে মানুষ দাঁড়ানে প্রায় অসম্ভব ছিল। তাই অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করে চলে যেত। ২০১৭ সনে সাংবাদিক সাব্বির প্রথমে বৃক্ষ ভিক্ষার মাধ্যমে তিনি রাস্তার পাশে গাছ লাগানে শুরু করেন। প্রথম সেচ্ছায় বৃক্ষরোপন আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যক্রম উদ্ভোধন করেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন ও জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল বনিক।  তার এই কার্যক্রম দেখে পরবর্তীতে তৎকালীন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আজমেরী হক ৫০হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়ে এবং উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভার মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন “তরুছায়া” প্রকল্প হিসাবে বৃক্ষরোপনের জন্য চুক্তি ভিত্তিক ভাবে জৈন্তা ফটোগ্রাফী সোসাইটিকে দায়িত্বদেন। এর পর হতে অধ্যবদি পর্যন্ত তরুছায়া বনায়ন প্রকল্পের নিজস্ব অর্থের মাধ্যমে লাল শাপলা বিলের রাস্তার দুপাশ বিভিন্ন প্রজাতী যেমন শিমুল, কৃষ্ণচুড়া, কদম, বেলজিয়াম, রেট্রি তালগাছ, সোনালো, বটবৃক্ষ, অজুন, টেনটেরা, জারুল, হিজল গাছের চারা রোপন ও পরিচর্যা করে আসছে। একটি চক্রের কিছু সুবিধাভোগী লোক অতি সম্প্রতি ভিন্ন চরিত্র তুলো ধরতে বৃক্ষায়নকে বির্তকিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীরা সরজমিন পরিদর্শন করে তরুছায়া সামাজিক বনায়ন লাল শাপলা বিলের ক্ষতির কারন কিনা যাচাইয়ের জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। 

তরুছায়া বনায়ন নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সাব্বির এর চেষ্ঠায় রাস্থায় বৃক্ষায়ন হয়েছে। যার কারনে আমরা বৃক্ষের ছায়াতে বসে ক্ষুদ্র ব্যবসা করছি। পর্যটকরা ছায়াতে আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ঘুরাফেরা করতে পারছে। ভাল কাজের পিছনে কিছু মানুষ থাকে তারা এরকম বলতে পারে। তাদের ভাল পছন্দ নহে।

ব্যবসায়ী নূরুজ্জামান বলেন, বৃক্ষায়ন করা এটি অত্যান্ত ভাল কাজের মধ্যে একটি কাজ করছে সাংবাদিক সাব্বির। যাহা অনেক অর্থশালী মানুষ করেত পারবে না। আমরা তার এই কাজকে স্বাগত জানাচ্ছি। তার এই কাজের জন্য পর্যটরা বিশেষ করে ছায়া পাচ্ছে। কিছু মানুষ ব্যক্তিগত কারনে তার এই কাজকে সহ্য করতে না পেরে নানা ভাবে প্রভাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমি বলব শাপলা বিলের রাস্তা ঘুরে বিষয়টি দেখে তার বিরুদ্ধে বা বনায়নের বিরুদ্ধে কথা বলুন।

তামাবিল স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী মিছবাহুল আম্বিয়া বলেন, সাংবাদিক সাব্বির ব্যক্তি কি সেটা বিষয় নয়, লাল শাপলা বিলে বৃক্ষায়ন করে সৌন্দর্য সৃষ্টি করছে। আগত পর্যটকদের ছায়ার নিচে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। বনবিভাগ সহ অন্যান্যরা কোথায় ছিলেন যখন তিনি উদ্যোগ নিয়ে কাছ শুরু করেছেন। এখন ভাল কাজ করে সে খারাপ হয়ে গেছে। উপজেলায় কতজন লোক আছে এরকম গাছ লাগানোর উদ্যোগ ও পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। আমরা তার কাজকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং তার পাশে আছি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাদিরা বেঁচে থাকবে তারুণ্যের বিপ্লবে

1

বিরামপুরে শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি প্রচারণাঃ

2

নোয়াখালীতে বিএনপির জন-জিজ্ঞাসা বিষয়ক আলোচনা সভা

3

নিয়ামতপুরে শিশু মমতা হত্যাকারীদের ফাঁসীর দাবী মানববন্ধন

4

জামালপুরে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফ

5

রায়গঞ্জে নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন পাঠ

6

নয়াপাড়া ইউনিয়নে তিনজন মাদকসেবী আটক করেছে ইউএনও

7

বরিশালের চরকাউয়া নয়ানীতে নারী নিখোঁজ, থানায় জিডি

8

শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনা ফর

9

লালমোহনে অটোরিকশা চালক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, মূল হোতাসহ

10

স্পেশাল অলিম্পিকসে পদক জয়ী জামালপুরের প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের

11

‎হাজীশ্বরাইয়ে বিয়ে বাড়িতে ডাকাতি ‎মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণা

12

হাজারো নেতাকর্মীর বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত

13

সাপাহারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে আশঙ্কাজনক হারে

14

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী সাথে নূরুল ইসলাম বুলবুলের মতিবিনিম

15

সদরপুরে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য কর্মবিরতি পালন করেছে মেডি

16

জামালপুরে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বৃদ

17

বিরামপুর রেল স্টেশনে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রে

18

ভাঙ্গুড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক সহোদর

19

ত্রিশালে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি

20