আবু সায়েম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ০৬ নং পাড়ঐল ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বটবৃক্ষের সমারোহ ক্ষেতো বেলগাপুর বাজার সংলগ্ন বেলগাপুর গ্রাম। এখানেই বসবাস করেন আদিবাসী খামারি আপলু মারাণ্ডী—যার জীবনসংগ্রাম আজ এলাকাবাসীর কাছে অনুপ্রেরণার গল্প।
ছাগল–ভেড়া পালন থেকে বড় খামারের পথে যাত্রা
আপলুর খামারজীবন শুরু হয়েছিল খুব ছোট পরিসরে। কয়েকটি ছাগল ও ভেড়া পালন করেই তার কর্মজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার ফলে তিনি আজ দেশীয় গরুর
সফল খামারি হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে তার খামারে রয়েছে—
দেশি গরু: ৫৫টি
ভেড়া: ২৩টি
ছাগল: ১৪টি
এই উল্লেখযোগ্য পশুপালন তাকে শুধু স্বাবলম্বীই করেনি, বরং পরিবারের চার ভাই এবং স্ত্রীসহ সামগ্রিক জীবিকা নির্বাহেও শক্ত ভিত তৈরি করেছে।
কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের অবস্থান
আপলুর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই বেলগাপুর গ্রামেই। শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের সঙ্গে তার পরিচয়। অর্থনৈতিক সংকট, জমিজমা না থাকা, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি—এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি।
আজকের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান—
> “ছাগল–ভেড়া দিয়ে শুরু করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে এখন বড় খামার হয়েছে। পরিশ্রম করলে ফল অবশ্যই পাওয়া যায়।”
দুধের বাজারে দেশি গরুর চাহিদা শীর্ষে
আপলুর খামারের গরুগুলো পুরোপুরি দেশি জাতের হওয়ায় দুধের মান অত্যন্ত উচ্চমানের। ফলে বাজারে দেশি দুধের চাহিদা এতটাই বেশি যে তাকে আর নিজে বাজারে যেতে হয় না।
খামারিরা নিয়মিত তার বাড়ি থেকে—
দুধ ক্রয় করেন,
দুধের মূল্য সরাসরি প্রদান করেন,
এবং অনেক সময় অগ্রিম বুকিংও নিয়ে থাকেন।
এর ফলে পরিবহন ব্যয় ও অতিরিক্ত ঝামেলা ছাড়াই আপলু বাড়িতেই দুধ বিক্রি করে ভালো আয় করছেন।
পরিবারই শক্তির জায়গা
চার ভাই ও স্ত্রী — সবাই মিলে পুরো খামার পরিচালনা করেন। গরুর পরিচর্যা, খাবার সংগ্রহ, দুধ দোহন, খামার পরিষ্কার—প্রতিটি কাজই ভাগ করে নেন তারা। পারিবারিক এই সমন্বয় আপলুর সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
স্থানীয় মানুষের অনুপ্রেরণা আপলু
বেলগাপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আপলু এখন তরুণদের রোল মডেল।
শিক্ষিত–অশিক্ষিত অনেক বেকার যুবক তার কাছে এসে খামার ব্যবস্থাপনা শেখেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তাদের উৎসাহ দেন—
ছোট থেকে শুরু করতে,
পরিশ্রমকে মূল শক্তি মানতে,
এবং সৎ ও আত্মনির্ভরশীল পথে চলতে।
যেখানে জীবনের শুরু ছিল সংগ্রামের, সেখানে আজ সাফল্যের আলো ছড়াচ্ছেন আদিবাসী খামারি আপলু। ছাগল–ভেড়া থেকে গরুর খামার প্রতিষ্ঠা—এটি শুধু তার নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই এক অনুপ্রেরণার গল্প।