মনির আহমদ আজাদ
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে রাজনীতির আকাশে যেন এক ভিন্ন আবহ। আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় আয়োজিত খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলটি মুহূর্তেই রূপ নেয় এক অনন্য গণসমাবেশে। অলি আহম্মদ স্টেডিয়াম শুধু একটি আয়োজনের স্থান ছিল না—তা হয়ে উঠেছিল মানুষের আবেগ, প্রত্যাশা ও বিশ্বাসের মিলনমেলা। ধানের শীষের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের সমর্থনে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে সকাল গড়ানোর আগেই নির্ধারিত স্থান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে মিলিত হয় একই ঠিকানায়। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ধর্মীয় পরিবেশ অচিরেই রূপ নেয় উৎসবমুখর জনস্রোতে। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ—যেন নীরব প্রার্থনার ভেতর দিয়েই উচ্চারিত হয় মানুষের রাজনৈতিক ভাষা। দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বক্তব্যে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য দোয়া কামনা করেন। তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল কৃতজ্ঞতা—জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনকেই তিনি নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে একান্ত আবেদনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সমাবেশে উপস্থিত অনেকের চোখে-মুখে ছিল আশার ঝিলিক। তাঁদের ভাষ্যে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। একটি দোয়া মাহফিলেই যে বিপুল জনসমাগম ঘটেছে, তা ধানের শীষের প্রতি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের স্পষ্ট প্রতিফলন এবং আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রার্থীর শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে। স্থানীয় প্রবীণ মুরুব্বি, আলেম-ওলামা ও সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পায় এক গভীর সামাজিক তাৎপর্য। আলেমদের পরিচালনায় দেশ, জাতি ও জনগণের
কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়—যেখানে প্রার্থনার সঙ্গে মিশে ছিল ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা। দোয়া মাহফিল শেষে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন। তবে অলি আহম্মদ স্টেডিয়ামে সেদিন যে গণজোয়ারের ছাপ পড়ে গেল, তা কেবল একটি দিনের আয়োজন নয়—চট্টগ্রাম-১৫ আসনের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক গভীর বার্তারই ইঙ্গিত দিয়ে গেল।