শহীদুজ্জামান শুভ
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সেলাই মেশিন মেরামতের পাওনা টাকা চাইতে গেলে মোঃ মোবারক হোসেন (৪৬) নামে এক কারিগরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
মোবারক হোসেন পেশায় সেলাই মেশিন ও গ্যাসের চুলা মেরামতকারী। তিনি নিকলী উপজেলার মজলিশপুর বড়হাটি গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) মোবারক হোসেন নিজে নিকলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগের চার দিন পার হলেও থানায় মামলা গ্রহণ করেননি নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জ নিউজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মোবারক হোসেনের বড় ভাই মনির উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির উদ্দিন বলেন, নিকলী উপজেলার মজলিশপুর ভুঞা সুপার মার্কেটে তার ছোট ভাইয়ের একটি সেলাই মেশিন ও গ্যাসের চুলা মেরামতের দোকান রয়েছে। অভিযুক্ত শাওন প্রায়ই দোকান থেকে কাজ করিয়ে নিলেও টাকা দিত না। বুধবার টাকা চাইতে গেলে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। এরপর লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মাথা, ঘাড়, কান, পিঠ ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করে।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা আমার ভাইকে মৃত ভেবে রেখে যাওয়ার পাশাপাশি দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে। অভিযুক্ত শাওন আমার ভাইয়ের পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাই লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেন।
অভিযুক্তরা হলেন—
মোঃ শাওন (৩০), পিতা: এরশাদ আলী,
ছুরমান (৬০), পিতা: মৃত আইক্কাবালী,
এখলাছ উদ্দিন (৪৫), পিতা: আব্বাছ আলী।
তারা সবাই নিকলী উপজেলার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে মনির উদ্দিনের বন্ধু বুলবুল আহমেদ ও আত্মীয় শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমি মামলা নেব। মামলা নিচ্ছি না—এমন নয়। আমি তো ডেকে এনে মামলা নিই। আপনারা আমার ব্যাপারে খোঁজ নেন।”