দেবুল কুমার দাস
পোষ ও মাঘ মাসে বাড়ে শীতের তীব্রতা। এসময় বাড়ে রস ও গুড়ের চাহিদা। গাছিরা ব্যান্ত থাকে রস ও গুড় সংগ্রহে। তবে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারনে গাছ ও গাছি কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে যশোরের যশ খেজুরের রস এর ঐতিহ্য।ফলে বাড়ছে রস ও গুড়ের দাম।
যশোরের বিভিন্ন এলাকার ন্যায় সীমান্ত সংলগ্ন কৃষি প্রধান উপজেলা শার্শার বেনাপোল নাভারন বাগআচড়া.পুটখালি ও গোগা এলাকায় একসময় ছিল প্রচুর পরিমানে খেজুর গাছ। ছিল গাছি। শীত এলেই খেজুরের রস ও গুড় বা পাটালিতে ভরপুর থাকত এলাকা। এসব খেজুরের গুড় ও পাটালি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হতো দেশের বিভিন্ন এলাকায়।ইটের ভাটা ও জনবসতির কারনে কমেছে গাছ ও গাছি। এখন গ্রাম এলাকার খেজুর গাছ কেটে রস গুড় সংগ্রহ করে কষ্টে সংসার চলছে গাছিদের। গাছ বাড়লে বাড়বে আয় কমবে দাম আশা গাছিদের।
গাছি মনিরুজ্জামান মনির ও হাসিবুর রহমান জানান.এখন নেই গাছ সেজন্য কমেছে গাছ।কৃষকদের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে খেজুর গাছ কাটছেন তারা। ভাগ দিতে হচ্ছে সমান। এর পরও গাছ কেটে রস গুড় ওপাটালি বিক্রি করে তিন মাস সংসার চলে ভাল। গাছ বাড়লে মিটবে রস গুড়ের চাহিদা কমবে দাম।
শীতের প্রকোপ বাড়ায় চলছে খেজুরের রস গুড় সংগ্রহ। গাছ কাটছেন গাছিরা। বাড়ছে গুড় ও পাঠালির চাহিদা। তবে বেশি দামেই এসব রস গুড় কিনছেন ভোক্তারা। খেজুর গাছ বৃদ্ধিতে কৃষি দফতরের সহযোগিতাসহ উদ্যোগ গ্রহনের দাবী জানান আরজিনা খাতুন ও মসিউর রহমান। আরমান হোসেন ও ফরিদা বেগম জানান খেজুরের রস ও গুড় পছন্দ করেন তারা। তাইতো বেশি দামেই রস গুড় সংগ্রহ করছেন তারা।
যশোরের শার্শা উপজলায় ৭০ হাজার ৫০০ খেজুর গাছ আছে । এর মধ্যে ৩৫ হাজার গাছ থেকে রস গুড় সংগ্রহ করছেন চাষি ও গাছিরা। সব ধরনের সহযাগিতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কষি কর্মকর্তা-দীপক কুমার সাহা।
পতিত জমিসহ বিভিন্ন জমিতে খেজুর গাছ রোপনসহ বানিজ্যিক ভাবে খেজুর গাছ চাষ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান কৃষি অধিদপ্তর।