সাকিল আহমেদ
বাংলাদেশে নারীর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য— দেশের কর্মক্ষেত্রে থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে অপমান, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
অফিস, গার্মেন্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম থেকে শুরু করে খেলাধুলার মঞ্চ— কোথাও যেন নারীরা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অনেক নারী লজ্জা, সামাজিক ভয় বা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না। ফলে বেশিরভাগ ঘটনারই কোনো বিচার হয় না, আর অপরাধীরা থেকে যায় অদণ্ডিত।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে হয়রানির ঘটনা কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধক। একজন নারী যখন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন না, তখন তার দক্ষতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখনো হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হলেও তা কার্যকরভাবে কাজ করছে না। অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টো ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা হয়— যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নারীরা কমবেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইনবক্সে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা, মন্তব্য বা অশোভন আচরণ এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী বা পরিচিত ব্যক্তিরা জড়িত থাকলে, অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ন্যায্য প্রতিকার পান না।
বাংলাদেশ নারী আইনজীবী সমিতির এক প্রতিনিধির মতে, “আমাদের দেশে নারী নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু আইন থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ খুবই সীমিত। অভিযোগের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ না হলে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র আইনের প্রয়োগ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক শিক্ষার দিকেও জোর দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার।
নারী নিরাপত্তা মানে কেবল একটি ব্যক্তির সুরক্ষা নয়; এটি একটি সমাজের নৈতিকতার প্রতিফলন। যতদিন পর্যন্ত নারীরা সম্মান ও নিশ্চিন্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবেন না, ততদিন প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন ও সমতা সম্ভব নয়— এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।