মো. মেহেদী হাসান
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির ১০ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম জব্দের ঘটনার ৭ দিন পার
হলেও অভিযুক্ত আবুল বাশারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। অভিযানের দিন আবুল বাশার পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নিস্ক্রিয়তায় এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন আবুল বাশার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৈইডাঙ্গা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নকল দুধ উৎপাদনকারী আবুল বাশারের বাড়িতে গত ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমানা আক্তার হাজির হন। এসময় আবুল বাশার কৌশলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমানা আক্তারকে ম্যানেজ করে পালিয়ে যান। পরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ওই বাড়িতে পৌঁছালে নকল দুধ উৎপাদনে সহায়তাকারী হিসেবে আবুল বাশারের স্ত্রীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেসময় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু এরপরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নিষ্ক্রিয়তায় ঘটনার ৭ দিন পার হলেও মামলা দায়ের হয়নি। এমনকি আবুল বাশারের দুধ সংগ্রহকারী চিলিং সেন্টার ফারুক ডেইরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রাণিসম্পদ অফিস।
এদিকে অভিযানের সময় আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস এখন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মামলার বিষয়টির দায় চাপাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানা প্রশাসনের উপর। অথচ দুগ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের আওতাধীন।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমানা আক্তার রোমিও বলেন, অভিযানের দিন মামলা করার সিদ্ধান্ত হলেও এখনো করা হয়নি। দুধের বিষয়টি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আওতাধীন হলেও মামলা করতে পারছি না। কারণ আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা নই। এ বিষয়ে মামলা করলে উপজেলা কিংবা থানা প্রশাসন করবে।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নকল দুধ তৈরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা যায়। এতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আবুল বাশারের নকল দুধ তৈরির বিষয়টি থানা প্রশাসন অবগত আছে। তবে এখনো কেউ মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করেনি। আবেদন করলেই মামলা রুজু করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, নকল দুধের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অফিস আইনগত ব্যবস্থা নিবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এর দায় এড়াতে পারেন না। উপজেলা প্রশাসনের মিটিং এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে।
ফটো ক্যাপশন: নকল দুধ তৈরিকারী আবুল বাশার।
ও
গত ২৯ নভেম্বর অভিযানে জব্দ নকল দুধ তৈরি সরঞ্জাম।