জাকারিয়া মিঞা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৪৬ জন গ্রাহকের ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৮০ টাকা লোপাট করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এই ৪৬ জন গ্রাহক কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলবাড়ী জোনাল অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছে। এধরণের প্রতারণার শিকার গ্রাহক আরও অনেক আছে বলে জানাগেছে। অভিযোগসূত্রে জানাগেছে, ২০২৪ সালে মাঠ পর্যায়ে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় ফুলবাড়ী জোনাল অফিসের মিটার রিডার কাম মেসেন্জার শামীম আহসানকে। তিনি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল জমার রশিদ দিয়ে বকেয়া বিল উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে ওই গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে এসে দেখেন তাদের বকেয়া বিল অফিসে জমা করা হয়নি। তাই ওই বিলগুলো পুনরায় জমা করতে বলে কর্তৃপক্ষ। জমার রশিদ থাকায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আবারও বিল দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্যে মিটার রিডার শামীম আহসান বদলি হয়ে যান। এক বছর পার হয়ে গেলেও গ্রাহকদের এখনও সেই বকেয়া বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় লাইন কাটার জন্য বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক আসে। তখন তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিল পরিশোধের জন্য বলে। আমরা টাকা দিয়ে অফিসের সীলযুক্ত বিদ্যুৎ বিল জমার কাগজ নেই। এরপরও পরবর্তী মাসের বিলের সাথে পূর্বের বকেয়া যুক্ত করে দেয়া হয়। আমরা অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে ফুলবাড়ি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম ও এজিএম আমাদেরকে কোন পাত্তা না দিয়ে বিল পরিশোধ করার তাগিদ দেন। আমরা তাদের এই দুর্নীতির শাস্তি দাবী করছি।
ফুলবাড়ী জোনাল অফিসের মিটার রিডার কাম মেসেন্জার শামীম আহসানকে কারেন্ট বিলের সঙ্গে সংযুক্ত তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটিতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ দেখায়।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পবিসের ফুলবাড়ী জোনাল অফিসের ডিজিএম রেজাউল করিম জানান, এ অফিসে কর্মরত মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার শামীম হাসান বিল আদায় করে অফিসে টাকা জমা করেননি। ওই সময় তিনি বদলী হয়ে যান। আমি জানতে পেরেছি পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ওই বিলগুলোর বিষয়ে জোনাল অফিসের তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তালিকা সংগ্রহ করে কুড়িগ্রাম জেলা হেড অফিসকে অবহিত করে। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু পূর্বের বিলটার কোন সমাধান হয়নি সেহেতু নতুন বিলের সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে বকেয়া এই বিলটি যাবে।
মন্তব্য করুন