মোঃ রানারানা আর সাকিবের বন্ধুত্বটা অনেকটা ঐ নীল আকাশের মতো—যাতে কোনো সীমানা নেই। গ্রামের ধুলোমাখা মাঠ থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত জীবন, সবখানেই ওরা ছায়ার মতো একে অপরের পাশে। ছবিতে যেমন দেখছেন, ওদের পোশাকের রঙে মিল থাকলেও মনের রঙের মিলটা আরও গভীর।
এক বিকেলে মাঠে ফেরা
রানা সবসময় একটু চনমনে, হাতে ক্যামেরা বা স্মার্টফোন নিয়ে স্মৃতি জমিয়ে রাখতে ভালোবাসে। আর সাকিব একটু ধীরস্থির, তবে লক্ষ্য খুব পাকা। সাকিবের গায়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী স্পোর্টস জার্সি। সেদিন ছিল ছুটির দিন, পাড়ার মাঠে একটা প্রীতি ম্যাচ খেলার পর ওরা উঠে আসে বাড়ির খোলা ছাদে।
ছাদে তখন চারদিকে সবুজের মেলা আর পেছনে একটা পুরনো ইটের দেয়াল—সেটা যেন ওদের দীর্ঘদিনের অটুট বন্ধুত্বেরই সাক্ষী। রানা ফোনটা হাতে নিয়ে হাসিমুখে একটা সেলফি তুলল। সাকিব পাশে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছিল। সে বলল, "কিরে রানা, এত ছবি তুলে কী হবে?"
রানা সাকিবের কাঁধে হাত রেখে বলেছিল, "ছবিগুলো কথা বলে রে বন্ধু। বিশ বছর পর যখন আমরা বুড়ো হব, তখন এই ছবিটা দেখলেই আমাদের সেই ধুলোমাখা বিকেলের কথা মনে পড়ে যাবে।"
বিপদে ভাই ভাই
একবার সাকিবের খুব কঠিন সময় যাচ্ছিল। পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে সে খুব ভেঙে পড়েছিল। সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু রানাকে কি আটকে রাখা যায়? সে প্রতিদিন সাকিবের বাড়িতে যেত, দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত।
রানা সাকিবের প্রিয় ফুটবলটা নিয়ে জানালার নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত আর চিৎকার করে বলত, "মাঠে নামবি না? তুই না থাকলে তো আমাদের টিমটা একদম অসম্পূর্ণ!" সাকিবের মনোবল ফিরিয়ে এনে তাকে আবার হাসাতে রানার চেয়ে বেশি কেউ চেষ্টা করেনি। সাকিব পরে বুঝেছিল, রানা কেবল বন্ধু নয়, ও হলো সেই ভাই যে একই মায়ের গর্ভে না জন্মালেও প্রাণের চেয়েও প্রিয়।
বর্তমানের প্রতিচ্ছবি
আজকের এই ছবিটা সেই বিশ্বাসের প্রতীক। নীল রঙ যেমন স্থায়িত্ব এবং বিশ্বাসের কথা বলে, ওদের এই হাসিমাখা মুখগুলোও তেমনই এক অটুট সম্পর্কের পরিচয় দিচ্ছে। একজন খেলাধুলা বা মাঠে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসলেও অন্যজন সবসময় তাকে আগলে রাখে নিজের পজেটিভ এনার্জি দিয়ে।
গল্পের শেষ কথা:
রানা আর সাকিবের মতো বন্ধু সবার জীবনে আসুক। যারা শুধু আনন্দের সময় নয়, বরং জীবনের রুক্ষ ইটের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়েও বুক ভরে হাসতে শেখায়।
মন্তব্য করুন