জাহারুল ইসলাম জীবন
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫শে ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন। তবে তার এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজপথে বড় কোনো শো-ডাউনের পরিবর্তে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে এক নজিরবিহীন কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
লন্ডন থেকে বিশেষ বার্তা:- লন্ডনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে এক ভিডিও বিবৃতিতে তারেক রহমান তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তারিখ নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ২৫শে ডিসেম্বর তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। তবে এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা বিদায় সংবর্ধনা না করার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি:- তারেক রহমান তার বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন:
* ২৫শে ডিসেম্বর লন্ডন বিমানবন্দরে কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী তাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হতে পারবেন না।
* যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে বিমানবন্দরে যান, তবে তাকে সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে।
* নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তারেক রহমানের কেন এই কঠোরতা?- রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব করা। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উস্কানির সুযোগ না দেওয়া। তারেক রহমান চান তার এই ফেরা হোক অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া:- তারেক রহমানের ফেরার খবরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিলেও, নেতার কঠোর নির্দেশনার কারণে তারা এখন সংযত। বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর এবং কেউ যেন আবেগের বশবর্তী হয়ে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
সর্বপরি, ২৫শে ডিসেম্বর তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার আকুলতা থাকলেও, নেতার নির্দেশ মেনে সুশৃঙ্খল থাকাটাই এখন বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের জন্য বড় পরীক্ষা।
মন্তব্য করুন