টঙ্গী, জয়দেবপুর, ধীরাশ্রম, বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ী, চৌরাস্তা এবং কালিয়াকৈর সড়ককেন্দ্রিক এলাকাগুলো বর্তমানে ছিনতাইপ্রবণ হটস্পট হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। অধিকাংশ ঘটনায় ছুরি, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করতে গেলে প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা মূলত রাত ৯টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলাচলকারী পথচারী, পোশাকশ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করছে।
পাঘার, ঝিনুমার্কেট এলাকায় এক ভুক্তভোগী জেমস নয়ন বলেন,
“প্রতিদিন রাস্তায় নামা মানেই জীবন হাতে নিয়ে নামা। ছিনতাইকারীরা কোনো ভয়ই পায় না।”
টঙ্গী বিসিকের ওষুধ ব্যবসায়ী মো: সবুজ তালুকদার বলেন,
“দোকান থেকে ফেরার পথে আমাদেরই টার্গেট করা হয়। মোবাইল, টাকা আর মানিব্যাগ নিয়ে যায়। চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসে না।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন,
“ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা নিয়মিত অভিযান, টহল ও
চেকপোস্ট পরিচালনা করছি। তবে জনসংখ্যা ও যান চলাচল বেশি হওয়ায় অপরাধ দমন কঠিন হয়ে পড়ছে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গাজীপুরে নগদ অর্থ ও চলাচল বেশি—এ সুযোগেই অপরাধীরা সক্রিয় হচ্ছে। স্থায়ী পুলিশ টহল, আধুনিক সিসিটিভি নেটওয়ার্ক, অন্ধকার সড়কে আলোকসজ্জা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো ছাড়া এই অপরাধ পরিস্থিতির লাগাম টানা সম্ভব নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—
“তবে কি গাজীপুরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলতে আর কিছুই থাকল না?”
মন্তব্য করুন