মোঃ রাতুল হাসান লিমন
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
খুচরা বাজারে কোথাও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো বিকল্প উপায়ে রান্না চালিয়ে নিলেও বহু বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে একপ্রকার জিম্মি অবস্থায় পড়েছেন এলপিজি নির্ভর পরিবারগুলো।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, নিয়মিত যেসব দোকান থেকে ভোক্তারা সিলিন্ডার কিনে থাকেন, সেগুলোতে গ্যাস নেই। দোকানিরা জানান, ডিস্ট্রিবিউটররা হঠাৎ করে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, “আমাদের কাছে অর্ডার থাকলেও কোম্পানি বা পরিবেশকদের কাছ থেকে কোনো সিলিন্ডার আসছে না। তাই ভোক্তাদের কিছুই দিতে পারছি না।”
এদিকে এলপিজি পরিস্থিতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) মূল্য বৃদ্ধি, জরিমানা প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন। একই সঙ্গে সারাদেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে নোটিশ জারি করে সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৭ টাকার চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভোক্তারা।