সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের রাজনীতিতে যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে, তা অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলও অর্জন করতে পারেনি—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলটির সমর্থকরা। নীতি, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি যে অবস্থান ধরে রেখেছে, সেটিই তাদের প্রধান শক্তি বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত তথ্যমতে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কোটি টাকা, ৩০টি সংসদীয় আসন এমনকি মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েও তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আনতে পারেনি। একইভাবে সম্প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রায় ৩৫টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই বরাবরই ক্ষমতার লোভ নয়, বরং নীতির প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্লোগান— “শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই”—দলটির অবস্থানকে স্পষ্ট করে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে একটি স্বতন্ত্র প্রতীক ও ব্যালট বাক্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী রাজনীতির মাঠে ঐক্যের কথা বললেও সুযোগ বুঝে জামায়াতে ইসলামী নানা কৌশলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও পীর সাহেব
চরমোনাইকে উপেক্ষা ও কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। যারা ইসলামের পক্ষে সবাইকে একত্রিত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেই নেপথ্যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে—এমন অভিযোগ করছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
দলীয় নেতারা বলছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনো ক্ষমতার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেয় না। অবৈধ বা অনৈতিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী নয়। ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকাই তাদের মূল দর্শন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা মনে করেন, রাজনীতিতে কী পাওয়া গেল বা গেল না—তার চেয়েও বড় বিষয় হলো মহান বিচার দিবসে আল্লাহর সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারা। তাদের ভাষায়, “আমরা চেষ্টা করেছি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার, কোরআনের আইন বাস্তবায়নের। বাকিটা আল্লাহর ফয়সালা।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নীতিনিষ্ঠ অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন