মেহেদী হাসান হাবিব
তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের আঙিনায় শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। বাতাসে নতুন ধানের ঘ্রাণ আর কৃষকের অবিরাম পরিশ্রম—সব মিলিয়ে বাংলার গ্রামগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। সম্প্রতি ডুমুরিয়া এলাকায় ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।
সোনালী ফসলে সমৃদ্ধ আঙিনা
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুইজন কৃষক পরম মমতায় ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন। চিরাচরিত পদ্ধতিতে ড্রামের ওপর ধানের আঁটি পিটিয়ে শস্যদানা আলাদা করার এই দৃশ্যটি বাংলার শাশ্বত রূপকে মনে করিয়ে দেয়। সামনের উঠান জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সোনালী ধানের স্তূপ জানান দিচ্ছে এ বছরের ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
খড় ও ধানের বহুমুখী ব্যবহার
শুধু ধানই নয়, কৃষকের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ এর অবশিষ্টাংশ বা খড়। ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে খড়ের বিশাল স্তূপ বা 'পালা', যা সারা বছর গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। কৃষকদের মতে, সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সমন্বয়ে এবার ধানের মান অনেক উন্নত হয়েছে।
"মাঠে ঘাম ঝরিয়ে যে ফসল ফলিয়েছি, তা আজ ঘরে তুলতে পেরে সব কষ্ট ভুলে গেছি। এবার ধানের বাজারমূল্য ভালো থাকলে আমাদের সারা বছরের অভাব দূর হবে।" মিজানুর রহমান, স্থানীয় এক কৃষক।
আগামীর প্রত্যাশা
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া এবং মানসম্মত বীজের সহজলভ্যতা এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। কৃষকরা এখন মাড়াই শেষে ধান শুকানো এবং বাজারজাত করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সোনালী এই ধানের মাধ্যমেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফিরবে নতুন গতি।
মন্তব্য করুন