মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার চারান উত্তরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে শওকত কামাল খান (৭০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শওকত কামাল খান ওই গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে। তিনি ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শওকত কামাল খান দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করতেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন ঘরবাড়ি সংস্কার ও জমিজমা দেখাশোনার জন্য। মঙ্গলবার দিনেও তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে। কিন্তু বুধবার সকালে স্থানীয়রা তার বাড়ির পাশের জঙ্গলে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন।
নিহতের কাজের লোক ছেন্টু বলেন, “স্যার প্রায় ২০ দিন আগে ঢাকা থেকে এসে ঘর-দোয়ার মেরামতের কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে কাজ শেষে আমি আমার বাড়ি আটাবাড়ীতে ফিরে যাই। সন্ধ্যায় তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সকালে শুনি, তিনি নিখোঁজ। পরে জানতে পারি, বাড়ির পাশে জঙ্গলে তার লাশ পাওয়া গেছে।”
কোকডহরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিউর রহমান খান শাফি বলেন, “আমাদের চারান গ্রামে গত ৫০ বছরেও এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনি খুবই ভদ্র ও ভালো মানুষ ছিলেন। আমার জানা মতে, কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না।”
খবর পেয়ে কালিহাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ আমরা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছি। কেন একজন বৃদ্ধ মানুষকে এভাবে হত্যা করা হলো, সেটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
শান্ত ও শিক্ষিত এলাকার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। কে বা কারা হত্যা করেছে—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চারান উত্তরপাড়ার মানুষদের মনে।
মন্তব্য করুন