জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 2-ডিসেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গোবিন্দগঞ্জে ত্যাগ-অবদান অবমূল্যায়নের প্রশ্ন

মিজানুর রহমান 

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রাথমিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এমন এক নাম বাদ পড়েছে, যে নামটি বহু বছর ধরেই ত্যাগ, আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি অটল নিষ্ঠার প্রতীক—অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এই নেতাকে বাদ দেওয়ায় গোবিন্দগঞ্জজুড়ে উঠেছে ক্ষোভ ও হতাশার ঝড়। প্রশ্ন জাগছে—ত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়?

আদর্শ ও ত্যাগের এক প্রতীকী নাম

অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুধু পদ-পদবি বা প্রভাবের গল্প নয়; এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে নিজের জীবনের চেয়েও বড় করে দেখার এক বিরল দৃষ্টান্ত। দুঃসময়, দমন-পীড়ন, হামলা-মামলার মধ্যেও তিনি কখনো দল থেকে সরে যাননি।
যখন অনেক নেতা নিরাপদ পথ খুঁজেছেন, বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন—তখন তিনি রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে, প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে তিনি টানা এক বছর পার্টি অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকেও সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে গেছেন—এই নজির গোবিন্দগঞ্জ তো বটেই, দেশের রাজনীতিতেও বিরল।

দমন-পীড়নের মুখে অদম্য মনোবল

ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের সময়ে অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে একের পর এক নির্মম নির্যাতন নেমে আসে।

  • চাকরি হারান,
  • ২৭টি মামলার আসামি হন,
  • ৮ বার কারাবরণ করেন,
  • পুলিশের নির্যাতনে হাত-পা ভেঙে যায়—যার ক্ষতচিহ্ন আজও বহন করছেন।

এতসব সহ্য করেও তিনি দলের আদর্শ থেকে একচুল নড়েননি। তাঁর ত্যাগ ও স্থিতিশীলতা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে নতুন দৃষ্টান্ত রেখে গেছে।

গোবিন্দগঞ্জের কর্মীদের আত্মার আত্মীয়

অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা নন; তিনি তৃণমূলের কর্মীদের কাছে ঘরের মানুষ।
তিনি—

  • প্রতিটি নেতাকর্মীর বাড়িতে গেছেন,
  • বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন,
  • প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত অর্থে সহায়তা করেছেন।

কেবল ভোট চাইতে আসা নেতাদের চেয়ে তিনি আলাদা—তিনি কর্মীদের দুঃখ-কষ্টের অংশীদার। তাই গোবিন্দগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা তাঁর প্রতি অগাধ।

মনোনয়ন বঞ্চনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল

এত ত্যাগ, এত অবদান, এত জনসম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এবার প্রাথমিক মনোনয়ন পাননি। সিদ্ধান্তটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জে অনেক কর্মী-সমর্থক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ—যে নেতার জীবনই দলের প্রতি এক অটল আস্থা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস, তাঁকে বাদ দিলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন কোথায়?

গোবিন্দগঞ্জ-৪ আসনে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম শুধু একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ত্যাগ, আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি। তাঁর বঞ্চনা তৃণমূলের মনে যে আঘাত দিয়েছে, সেই ব্যথা সহজে কাটবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

প্রশ্ন এখন একটাই—ত্যাগীদের কি সত্যিই মূল্যায়ন করা হয়? নাকি ত্যাগের রাজনীতি আজও অবমূল্যায়নের শিকার?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজীপুর-২ আসনের ২৩ নং ওয়ার্ডে ছাত্রদল ও যুবদলের উদ্যোগে ক্র

1

গোমস্তাপুর উপজেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

2

কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মনোনয়ন

3

কালিয়াকৈর টিন সেট কলোনিতে ভয়াবহ আগুন

4

ঈশ্বরগঞ্জে বিকাশ আতঙ্ক অভিনব কায়দায় প্রতারণা

5

সখিপুরে আওয়ামী সাবেক এমপির ডিও লেটারে পদায়ন

6

শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৩৫টি গাছ প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি

7

‎দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

8

নওগাঁ জেলার পোরশায় উপজেলায় মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

9

মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি'র মনোনয়ন প্রত্যাশী মেজর রেজাউল করিম

10

ছাতকে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে নিটল কার্টিজ মিলের এক নিরাপত্

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢালাইয়ের মেশিনবাহী ট্রলি উল্টে এক নির্মাণ শ

12

তালায় সাসের SMART প্রকল্পের স্টাফ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনু

13

দোহার ও নবাবগঞ্জে পৃথক দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়

14

নোবিপ্রবিতে মাদকবিরোধী ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

15

রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গায় আমিনুল হত্যায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির

16

ওভারটেকিংয়ের সময় ঈশ্বরগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ১

17

আজমেরী ওসমানের সহযোগী পাভেল অস্ত্রসহ আটক

18

নাসির নগরে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

19

ছেলের কুঠারাঘাতে মা আইসিইউতে

20