মিজানুর রহমান
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রাথমিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এমন এক নাম বাদ পড়েছে, যে নামটি বহু বছর ধরেই ত্যাগ, আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি অটল নিষ্ঠার প্রতীক—অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এই নেতাকে বাদ দেওয়ায় গোবিন্দগঞ্জজুড়ে উঠেছে ক্ষোভ ও হতাশার ঝড়। প্রশ্ন জাগছে—ত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়?
অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুধু পদ-পদবি বা প্রভাবের গল্প নয়; এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে নিজের জীবনের চেয়েও বড় করে দেখার এক বিরল দৃষ্টান্ত। দুঃসময়, দমন-পীড়ন, হামলা-মামলার মধ্যেও তিনি কখনো দল থেকে সরে যাননি।
যখন অনেক নেতা নিরাপদ পথ খুঁজেছেন, বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন—তখন তিনি রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে, প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে তিনি টানা এক বছর পার্টি অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকেও সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে গেছেন—এই নজির গোবিন্দগঞ্জ তো বটেই, দেশের রাজনীতিতেও বিরল।
ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের সময়ে অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে একের পর এক নির্মম নির্যাতন নেমে আসে।
এতসব সহ্য করেও তিনি দলের আদর্শ থেকে একচুল নড়েননি। তাঁর ত্যাগ ও স্থিতিশীলতা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে নতুন দৃষ্টান্ত রেখে গেছে।
অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা নন; তিনি তৃণমূলের কর্মীদের কাছে ঘরের মানুষ।
তিনি—
কেবল ভোট চাইতে আসা নেতাদের চেয়ে তিনি আলাদা—তিনি কর্মীদের দুঃখ-কষ্টের অংশীদার। তাই গোবিন্দগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা তাঁর প্রতি অগাধ।
এত ত্যাগ, এত অবদান, এত জনসম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এবার প্রাথমিক মনোনয়ন পাননি। সিদ্ধান্তটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জে অনেক কর্মী-সমর্থক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তাদের অভিযোগ—যে নেতার জীবনই দলের প্রতি এক অটল আস্থা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস, তাঁকে বাদ দিলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন কোথায়?
গোবিন্দগঞ্জ-৪ আসনে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম শুধু একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ত্যাগ, আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি। তাঁর বঞ্চনা তৃণমূলের মনে যে আঘাত দিয়েছে, সেই ব্যথা সহজে কাটবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
প্রশ্ন এখন একটাই—ত্যাগীদের কি সত্যিই মূল্যায়ন করা হয়? নাকি ত্যাগের রাজনীতি আজও অবমূল্যায়নের শিকার?
মন্তব্য করুন