আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল
জ্বরাজীর্ণ পুরাতন বিল্ডিং ভবন ও পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষের অভাবে ধ্বসে পড়ার ঝুকি নিয়েই চিলমারী উপজেলায় রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের খালেদা-শওকত পাটোয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে ছাত্র অভিভাবক,শিক্ষক ও এলাকাবাসীরা উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে,উক্ত বিদ্যালয়ের পুরাতন বিল্ডিং ঘরটিতে তিনটি শ্রেণী কক্ষের উপরের ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। অপেক্ষাকৃত একটু ভাল অবকাঠামোর অরেকটি ভবনেও রয়েছে তিনটি শ্রেণী কক্ষ। সেখানে রয়েছে শিক্ষকগনের জন্য লাইব্ররী। পুরাতন বিল্ডিং ঘরটি ছাদ ফেটে গিয়ে ঝুকি পূর্ণ হওয়া এবং বৃষ্টির সময় বৃষ্টির পানি চুয়েচুয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যাওয়ার কারনে এখন সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তাই মাত্র দু'টি শ্রেণী কক্ষেই গত এক বছর যাবৎ শিফট্ করে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠদান চালু করা হয়। প্রধান শিক্ষক ছালমা বেগম জানান, ১৫৪ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে অনেক কষ্টে শিক্ষকগন শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন ভবনের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অবগত করে আসছেন। গত বুধবার বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় দুটি কক্ষে তৃত্বীয় থেকে পঞ্চম শ্রণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা তাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন বিদ্যালয় ভবন তৈরীর বিষয়ে সংশ্লষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জেরদাবী জানায়। এবিষয়ে সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, শ্রেণী কক্ষের সংকট ও জ্বরাজীর্ণ ভবনের সার্বিক ঝুকির কারনেই অনেক শিক্ষার্থীরা ফেরৎ যায়। তিনি আরো বলেন, নতুন বিল্ডিং ভবনের ব্যবস্থা হলে অনেক ছাত্র-ছাত্রীই এখানে পড়া-লেখার সুযোগ পাবে। তাই শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসীগন খালেদা শওকত পাটোয়ারী সরকারী বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন বহুতল বিল্ডিং নির্মাণে সরকারের নিকট অনুরোধ এবং দাবী করেছেন। এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সংগে কথা হলে তিনি বলেন, ঐ বিদ্যালয়ের সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে আবেদন পেলে নতুন বিদ্যালয় ভবনের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য যে, বিগত পতিত সরকারের আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সহ অবকাঠামে উন্নয়নে প্রায় সাড়ে আটকোটি টাকা বরাদ্দ তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলীর গাফলিতর কারনে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন