মোঃ জাকে উল্লাহসিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুলে ফুলে ভরে উঠে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।
ধামাইনগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ কাজী মুদ্দীন কাজীর নেতৃত্বে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীর উদ্দিন, এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মৎস্যজীবী দল শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ডিসেম্বরের বিজয় মাস ঘিরে দেশের তৃণমূল মানুষের ভাবনা—আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বিজয় দিবসে। মাঠ-ঘাট, হাট-বাজার, গ্রামের চায়ের দোকান, মসজিদ-মন্দিরের উঠোন—যেখানেই কথোপকথন হয়েছে, সেখানেই সাধারণ মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে নতুন বার্তা—
“বিজয়ের ফসল গরীবের ঘরে উঠুক, ঐক্যই চেতনা, চেতনাই উন্নতি। দূর হউক বৈষম্য।”
তৃণমূলের মানুষের অভিন্ন মত—বিজয়ের সুফল সকলের ঘরে পৌঁছাক
মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন ছিলো সাম্যের বাংলাদেশ গড়া, তৃণমূল মানুষের মতে সেই স্বপ্ন পুরোপুরি পূরণ হয়নি এখনো। গ্রাম ও শহরের অর্থনৈতিক ব্যবধান, সুযোগের অসমতা, শিক্ষায়-বৈষম্য, কৃষক–শ্রমিকের অনিশ্চয়তা এখনো তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলা গ্রামের
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ কাজী মুদ্দীন কাজী বলেন, "দেশ উন্নয়ন হয়, রাস্তা-ঘাট হয়, কিন্তু গরিব মানুষের ঘরে যেনো বিজয়ের আলো কিছুটা দেরিতে পৌঁছায়। এখন সময় এসেছে উন্নয়নের মালিকানা সবাই পাবে বলে আশা করি।”
একই মত প্রকাশ করেন উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র মাহাতো,
“বিজয়ের মাস মানে গর্ব। কিন্তু আমরা চাই—কাজের ন্যায্য মজুরি আর বাচ্চাদের শিক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্র আরো দৃঢ় হোক।”
ঐক্যের বার্তা—অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দাবি তৃণমূল মানুষের মতে, দেশের অগ্রগতি তখনই টেকসই হবে যখন সমাজে বিভাজন কমবে, রাজনৈতিক সহনশীলতা বাড়বে এবং একে অপরের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা গড়ে উঠবে।
স্থানীয় এক শিক্ষক শেখ নজরুল ইসলাম জানান—
“ঐক্য না থাকলে উন্নয়ন থেমে যায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শেখায়—ভাগ নয়, মিলনই শক্তি।”
বৈষম্য দূরীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে,
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামতে উঠে এসেছে কিছু মৌলিক দাবি—গ্রামে–শহরে সমান উন্নয়ন
কৃষক ও শ্রমিকের কাজে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় সহজপ্রাপ্তি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ
নারীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত
যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি
তারা মনে করেন—এইসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈষম্য কমবে এবং বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।
মন্তব্য করুন