মোঃ মশিউর রহমান
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর যখন সারাদেশে নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর–ফুলবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার প্রতিবাদে পার্বতীপুরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
সকালে ১০টায় পার্বতীপুর বাসটার্মিনাল চারমাথা মোড়ে শত শত নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন শুরু হয়। ব্যানার–ফেস্টুন হাতে দাঁড়ানো কর্মীরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘোষিত প্রার্থী এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নন এবং তার সাথে তৃণমূলের যোগাযোগও সীমিত।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন।
অবরোধ শেষে টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা পুরাতন বাজার, নতুন বাজারসহ প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি পার্টি অফিসে গিয়ে শেষ হয়। পুরো মিছিলজুড়ে কর্মীরা ‘মনোনয়ন পরিবর্তন করো’, ‘তৃণমূলের নেতাকে মনোনয়ন দাও’—এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আমরা ত্যাগী, জনপ্রিয় ও তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা এ জেড এম রেজওয়ানুল হককে প্রার্থী হিসেবে চাই। দলকে সুসংগঠিত রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব অপরিহার্য।” তারা আরও সতর্ক করেন, মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বক্তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল ও দেশের স্বার্থে জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের এই অবস্থান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।