মোঃ এমরান
দেশের ব্যাংক খাতে হঠাৎ শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব ছাঁটাই ঝড়। ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গত কয়েক মাসে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের অভিযোগ, কোনো লিখিত কারণ, নোটিশ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রমাণ ছাড়াই তাদের হঠাৎ করে অফিসে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বা “দায়িত্বহীন (OSD)” করে রাখা হয়েছে। অনেকেরই মাসের পর মাস বেতন বন্ধ, কেউ কেউ আবার বিনা কারণে পদচ্যুত হয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন,
> “আমরা বছরের পর বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। এখন কোনো কারণ ছাড়াই চাকরি হারিয়েছি। ব্যাংকে প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটা অন্যায়, এটা অন্যায্য।”
অন্য এক সাব-স্টাফ বলেন,
> “আমাদের কোনো দোষ ছিল না। তারপরও হঠাৎ বলে দেওয়া হলো— কাল থেকে তোমার দরকার নেই। সংসার, সন্তানের পড়াশোনা— সব এখন অনিশ্চিত।”
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংগঠন পুনর্গঠন ও আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবেই কিছু কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে চাকরিচ্যুতদের দাবি, এটি “ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক ও রাজনৈতিক প্রভাবিত সিদ্ধান্ত”।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে এভাবে হঠাৎ কর্মী ছাঁটাই কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও চাকরির নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত এবং অন্যায়ভাবে চাকরি হারানোদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের একাধিক সংগঠন জানিয়েছে, যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তারা মানববন্ধন ও আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।