সুমন আহমদ খান
সীমান্ত এলাকার উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি আমাকে আপনাদের খেদমতের সুযোগ দেন, তবে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ—এই তিন উপজেলা দেশের সবচেয়ে উন্নত এলাকায় পরিণত হবে।”
বুধবার (১৯ নভেম্বর) গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচারপত্র বিতরণ ও গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামান অভিযোগ করেন, অফুরন্ত খনিজসম্পদে ভরপুর সিলেট-৪ আসনের মানুষ বহু বছর ধরে কৃত্রিমভাবে দরিদ্র করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে এই অঞ্চলে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ রয়ে গেছে অবহেলায়।”
তিনি আরও বলেন, পাথর-বালুর রাজ্যখ্যাত এই জনপদের রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা, স্থানীয়রা গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত, আর খেটে খাওয়া শ্রমিকরা প্রকৃত লাভ পাচ্ছেন না।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের সংকট তুলে ধরে তিনি জানান, তিন উপজেলার জন্য আধুনিক হাসপাতাল নেই; গর্ভবতী নারীদের সামান্য চিকিৎসার জন্যও সিলেটে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ছে এই জনপদ।
বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ নির্বাচনমুখী, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে প্রস্তুত। বিএনপির ৩১ দফাকে তিনি “মানুষের মুক্তির সনদ” উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান এ সনদ বাস্তবায়ন করবেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে, যা প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামান ফতেপুর ইউনিয়নে মাদরাসা শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়, বিভিন্ন বাজারে লিফলেট বিতরণ, মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য এবং নিয়ানইন বাজারে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।