প্রকৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জনপদে এই সংকট এখন প্রকট। এই ভয়াবহতা রুখতে এবং জনসচেতনতা গড়তে খুলনার কয়রায় উপকূলীয় যুবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিশেষ 'রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ'।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল উপজেলা আনসার ও ভিডিপি মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'রূপান্তর'-এর সহযোগিতায় এবং 'ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন কয়রা' এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী প্লাস্টিক দূষণকে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন:
"প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে আমাদের এখনই একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use Plastic) বর্জন করতে হবে।"
প্রশিক্ষণে যুব প্রতিনিধিরা উপকূলীয় এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা ছড়ানোর কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, উপকূলীয় যুবসমাজ যদি সচেতন হয়, তবেই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব।
সভাপতিত্ব করেন নিরপদ মুন্ডা (সভাপতি, ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন কয়রা),সঞ্চালনায় রাসেল আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক)। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াছাদ আলী, রূপান্তরের প্রজেক্ট অফিসার অনুপ রায়, প্রশিক্ষক মেহেবুব হোসেন মিথুন ও ফারজানা আক্তার।
যুব প্রতিনিধি আশিকুজ্জামান, সুব্রত মুন্ডা, খাদিজা খাতুন ও সবুজ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা।
কয়রা এলাকাটি ভৌগোলিক কারণে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাশয় পলিথিনে আটকে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। যুবদের এই রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন বিশিষ্টজনেরা।
মন্তব্য করুন