মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
হেমন্তকে বিদায় জানিয়ে মধ্য কার্তিকের শেষ দিকে টাঙ্গাইলের প্রকৃতিতে দেখা দিয়েছে শীতের আগমন। ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস ও হালকা হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। পৌষ-মাঘ মাসকে শীতকাল হিসেবে ধরা হলেও, অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকেই শীতের প্রভাব প্রকট হয়ে উঠছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় মাঠ-ঘাট, গাছপালা। সবুজ ঘাসের মাথায় জমে থাকা শিশির বিন্দু সূর্যের প্রথম আলোয় মুক্তোর মতো ঝলমল করে। রাতে হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করেছে, যা শীতের উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করছে। অনেকেই ইতোমধ্যে পাতলা কাঁথা গায়ে জড়ানো শুরু করেছেন।
গ্রামীণ জনজীবনে শীত মানেই নতুন উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম। খেজুরের রস আর গুড় দিয়ে বানানো ভাপা পিঠা, চিতই ও পাটিসাপটা এখন গ্রামের প্রতিটি উঠোনে মিলছে। গাছিরা ভোরে গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামায়, আর সেই রস দিয়েই গাঁয়ের বধূরা তৈরি করেন ঐতিহ্যবাহী শীতের পিঠা। শিশুরা থেকে শুরু করে বয়স্করা—সবার মুখে এখন শীতের স্বাদ।
শহরে শীতের আগমন তুলনামূলক ধীরগতিতে হলেও, গ্রামাঞ্চলে ইতোমধ্যে শীত তার তীব্রতা নিয়ে হাজির। লোকমুখে প্রচলিত প্রবাদ—“মাঘের শীতে, বাঘও কাঁপে”—এরই প্রতিফলন যেন এখন থেকেই অনুভব করা যাচ্ছে।
এ সময় শীতকালীন ফসলের প্রাচুর্যে মুখর টাঙ্গাইলের হাটবাজার। মাঠে উঠছে শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক, মূলাশাক, লাউসহ নানা রকম সবজি। এসব সবজি শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ, যা মানুষের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনে।
প্রকৃতি, পিঠার ঘ্রাণ আর শীতের স্নিগ্ধতায় টাঙ্গাইল এখন এক অন্যরকম সৌন্দর্যে ভরপুর।
মন্তব্য করুন