জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 19-নভেম্বর-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঘাটাইলে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি বনজমি দখলের হিড়িক

মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বন বিভাগের জমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতাধীন ঝড়কা, বটতলী, ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী বিটে অনুমতি ছাড়াই গড়ে তোলা হচ্ছে দোকান, বসতবাড়ি, পোলট্রি ফার্মসহ নানা স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে—বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এ দখলদারিত্ব দিন দিন বেড়ে চলছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে বন, বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

সূত্র অনুযায়ী, ধলাপাড়া রেঞ্জের ৬টি বিট অফিসের অধীনে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭১৯ একর। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ একর জমি ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে। বিধি অনুযায়ী এসব এলাকায় গড়ে ওঠার কথা ছিল বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান। তবে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়—দেওপাড়া ও ঝড়কা বিট ছাড়া অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো বাগান নেই।

সবচেয়ে বেশি বনজমি বেহাত হয়েছে সাগরদিঘী ও ধলাপাড়া সদর বিটে। সরকারি গাছের জায়গায় উঠেছে কলা, পেঁপে, হলুদ চাষ, আমবাগান, মিল কারখানা, পাকা বাড়ি ও পোলট্রি ফার্ম। স্থানীয়দের অভিযোগ—‘রক্ষকরাই ভক্ষক’। তাদের দাবি, এখন বনের জমি জোর করে দখল করতে হয় না; রেঞ্জ ও বিট অফিসে টাকা দিলেই মিলছে জমি।

সূত্র আরও জানায়, বনজমিতে নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে হলে কর্মকর্তাদের প্রকারভেদে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত “চাঁদা” দিতে হয়। আর সিসি পিলার বসিয়ে ছাদ ঢালাই করলে লাগে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। এই যোগসাজশের কারণেই সরকারি বনভূমি দিনে দিনে উজাড় হয়ে যাচ্ছে।

ঝড়কা বিটের অন্তর্গত সন্ধানপুর মৌজার নয়ন চালা গ্রামে দেখা যায়—মৃত সাবদুলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সরকারি বনজমিতে বিশাল পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন এবং সেই বাড়িতে চালু করেছেন একাধিক ফার্ম। একই গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে হোসেন আলীকেও বনের জমিতে পাকা দালান নির্মাণ করতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি কোনো কথা না বলেই স্থান ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে সাগরদিঘী বিটের পাগারিয়া আমতলা এলাকায় গত কয়েক মাসে পাশাপাশি চারটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে বনভূমির ওপর। একই স্থানে পাগারিয়া বণিক সমিতির নামে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও একটি বড় ঘর। নির্মাণ শ্রমিকরা জানান—জমি বন বিভাগের কিনা, তা তাদের জানা নেই; সমিতির নির্দেশে তারা কাজ করছেন।

বিষয়টি জানতে চাইলে সাগরদিঘী বিট কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম আনচারি ফোনে কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ কেটে দেন।

ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন বলেন,
“এসব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন—আইন থাকলেও তা মানার কোনো উদ্যোগ নেই কেন? আর কত বন ধ্বংস হলে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

1

২০২৬ বিশ্ব রাজনীতি এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে

2

রাতের আঁধারে ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ

3

চুনারুঘাটে বন বিভাগের নিলামে হামলা, শ্রমিক দল নেতা সহ ৭জনের

4

বগুড়ার ধুনটে নির্মাণ শ্রমিকের আত্মহত্যা

5

আদমদীঘিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে মাসিক উন্মুক্ত আ

6

সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন প্রায় দুই হ

7

আজমেরী ওসমানের সহযোগী পাভেল অস্ত্রসহ আটক

8

বেলাইচন্ডি ইউনিয়নে বিএনপি’র ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ ও

9

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি ব

10

কালাইয়ে খুদে সাঁতারুদের মাঝে টি-শার্ট বিতরণ

11

নিয়ামতপুরে সাতঘরা ফুটবল মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

12

অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখল

13

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে মঞ্চ প্রস্তুত, নিরাপত্ত

14

সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবো খোকন তালুকদার

15

জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় সম্মত এনসিপি

16

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিশোরগঞ্জে

17

লালপুরে জেনাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশনের উদ্যোগে ছবক

18

সীমান্তে যুদ্ধের দামামা

19

দীর্ঘ ১,৫১,৫৩৬ ঘন্টা পর নিজদেশে জননেতা তারেক রহমান

20