খ.ম.জায়েদ হোসেন
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার হাওড় বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলায় জনবল সংকটে দীর্ঘ দিন যাবৎ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সেবা।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসির নগর উপজেলার তিন লক্ষ মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল(চিকিৎসা সেবা)। দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। এছাড়া রয়েছে রোগীদের নিন্মমানের খাবার পরিবেশনের ব্যাপক অভিযোগ।
এনেসথেসিয়ার অভাবে বিকল হচ্ছে যন্ত্রপাতি। গাইনি, সার্জারী, শিশু, চর্ম ও যৌন , অর্থপেডিক্স, মেডিসিন এনেস্থিসিয়া সহ ২১ টি পদের মধ্যে ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ পদই রয়েছে খালি। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষ জন সাধারণের একমাত্র সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, নাসির নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসক পদ রয়েছে ২১ টি। এরই মধ্যে ১৭ টি পদই খালি। এছাড়া কনসালটেন্ট ১০ টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১ টি। নার্স ৩৫ টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১৯ জন। নার্সদের মধ্যে আবার প্রেষনে চলে গেছে ৫ জন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেছে ৩ জন। এনেস্থিসিয়ার জন্য চিকিৎসক না থাকায় চালু হচ্ছে না সিজার সহ ছোট খাটো অপারেশন। চিকিৎসকদের সহকারী সেকমো ১৫ টি পদের বিপরীতে আছে ৩ জন। ১ জন রেডিওলজিস্টের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না এক্স-রে মেশিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি থাকার পরও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অভাবে চালু হচ্ছে না এক্স-রে মেশিন।
যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওড় বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার গরিব অসহায় কেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিদিনের ন্যায় চিকিৎসক কক্ষের সামনে নারী, পুরুষ, শিশু সহ দীর্ঘ লাইন। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসক কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। এ বিষয়ে আর এম ও ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০থেকে ৪০০ রোগী এই হাসপাতালে বর্হিঃবিভাগ থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকে বিভিন্ন বয়সী রোগীরা। এর মধ্যে পুরুষ রোগী চেয়ে মহিলা, শিশু রোগী সংখ্যা বেশি। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় এতো রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত কেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী নারী করিমননেছা বলেন,
আমার বয়স হইছে কোমড়ের বেদনা উঠতে পারিনা বইতে পারি না নমাজ পড়তে খুব কষ্ট অয়। আমি গরিব মানুষ আইছিলাম ডাক্তর দেহাইতে , আইয়া দেহি ডাক্তর নাই। আর কি করুম বাড়িত যাইগা।
চর্মরোগ চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ইদ্রিস মিয়া বলেন, আইছি চর্ম ডাক্তার দেখাইতে ডাক্তার না পাইয়া বাড়িত চইলা যাইতেছি। অতবড় হাসপাতালে আইছিলাম চিকিৎসা করামো, ওষুধ খামু কিন্তু ডাক্তার নাই। সরকারে অতবড় হাসপাতালে দিচ কেরে যদি ডাক্তার না থাহে।
এ বিষয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ মকবুল হোসেন প্রতিবেদককে জানান, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান উন্নতি করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু চিকিৎসকের অনেক পদ শূন্য, অপারেশন থিয়েটার সচল থাকলেও এনেস্থিসিয়ার অভাবে সিজার অপারেশন করা যাচ্ছে না। উধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া জানান,জনবল শূন্যতার বিষয়ে আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছি, চিকিৎসকদের জন্য। সামনে চিকিৎসক নিয়োগ আসছে, আশা করছি কতৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় আনবেন। অচিরেই চিকিৎসক সংকট কাঁটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন