মোঃ রাতুল হাসান লিমন
সিডনির বন্ডাই বিচে গত মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গণহত্যার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও কড়াকড়ি আনার পদক্ষেপ নিচ্ছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নতুন এ আইনের খসড়া পাস হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ
একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক পার্লামেন্টে নতুন আইনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আইনটি পাস হলে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতার অপরাধের ইতিহাস, পটভূমি ও অন্যান্য তথ্য আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এছাড়া অস্ত্রের আমদানি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা
হবে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো হবে যাতে লাইসেন্স প্রাপ্তির আগে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়।
নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জাতীয় পর্যায়ে ‘গান বাইব্যাক’ কর্মসূচি চালু। এর আওতায় সরকার জনগণের কাছ থেকে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র কিনে নেবে এবং দেশে মোট অস্ত্রের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্র
রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদে আইনটি ৯৬-৪৫ ভোটে পাস হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হতে উচ্চকক্ষ সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। সেখানে গ্রিন পার্টির সমর্থন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও রক্ষণশীল লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশনের বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর বন্ডাই বিচে একটি হানুক্কাহ উৎসব চলাকালীন ইসলামিক স্টেট অনুপ্রাণিত দুই ব্যক্তির হামলায় ১৫ জন নিহত হন। এটি দেশটির সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা। এ ঘটনার পর সরকার দ্রুত পার্লামেন্ট ডেকে এনে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে
নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। এর আগে ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার গণহত্যার পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম কঠোর অস্ত্র আইন প্রণয়ন করেছিল।