জনতার খবর রিপোর্টার
প্রকাশঃ 19-জানুয়ারী-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মানিকগঞ্জের ‘হাজারী গুড়’: নামকরণ, ঐতিহ্য ও বাজার—চাহিদা থাকলেও সংকটে উৎপাদন

 রবিউল ইসলাম
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য হাজারী গুড় আজ দেশজুড়ে পরিচিত একটি নাম। স্বাদ, সুগন্ধ ও বিশুদ্ধতার কারণে এই গুড়ের কদর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যেমন বেড়েছে, তেমনি বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাহিদা। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী গুড় এখন সংকটের মুখে।
নামকরণ যেভাবে
স্থানীয় প্রবীণ গাছি ও ইতিহাস সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক প্রজন্ম আগে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকায় ‘হাজারী’ নামে পরিচিত একটি পরিবার বিশেষ পদ্ধতিতে খেজুরের রস থেকে উন্নতমানের গুড় তৈরি শুরু করে। ওই পরিবারের নাম থেকেই এই গুড়ের নামকরণ হয় ‘হাজারী গুড়’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নামই ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
উৎপাদন এলাকা ও পদ্ধতি
মূলত মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার কিছু নির্দিষ্ট গ্রামে শীত মৌসুমে হাজারী গুড় তৈরি করা হয়। ভোররাতে সংগ্রহ করা টাটকা খেজুরের রস দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় এই গুড়। এতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল, চিনি বা কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় না।
বাজারদর ও বিক্রি
চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার বাজারে হাজারী গুড়ের দাম
প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মান ও পুরোনো খেজুর গাছের রস থেকে তৈরি গুড়ের দাম আরও বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই গুড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
দেশ-বিদেশে চাহিদা,
দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকেও প্রতিবছর হাজারী গুড়ের অর্ডার আসে। অনেক ক্ষেত্রে মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রিম বুকিং নিতে হয়।
সংকট ও উদ্বেগ,
উৎপাদকদের অভিযোগ, খেজুর গাছ কমে যাওয়া, দক্ষ গাছির সংকট, শ্রম ও জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই গুড় ভবিষ্যতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত,
কৃষি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাজারী গুড়কে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে এর ঐতিহ্য রক্ষা ও বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাযথ উদ্যোগ ও সংরক্ষণ না হলে এই ঐতিহ্য বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 


 

 
 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিম ও ব্রয়লারের দরপতনে কুলিয়ারচরের পোল্ট্রি খাতে সঙ্কট, দিশে

1

মার্কিন ধাওয়া খাওয়া সেই তেলের ট্যাংকার রক্ষায় সাবমেরিন পাঠাল

2

সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার নতুন অফিস উদ্বোধন

3

চুনারুঘাটে ইকরতলী গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচিতি স

4

অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হলো পাবনার নগরবাড়ী আধুনিক

5

জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন নাজিম উদ্দীন নাবিল

6

বারহাট্টায় আন্তর্জাতিক দূর্ণীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত

7

সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

8

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে হাইমচর উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক স

9

চাঁদপুরের ‘ওয়ান মিনিট’ মিষ্টিতে অবাঞ্ছিত অতিথি, তিন প্রতিষ্ঠ

10

নোয়াখালীতে তরুণ দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনু

11

উত্তর সাগরে বিশাল উইন্ড ফার্ম প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের যোগদান

12

গোপালগঞ্জে গণপূর্ত অফিসে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ ও গাড়িতে আগুন

13

'মাকসু না হয় মৃত্যু' - অনশনরত মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থী, ১০ ঘন্

14

শার্শায় এইচএসসি জিপিএ-৫ শিক্ষার্থী গ্রাম পুলিশ ও উদ্যোক্তাদে

15

শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি শহিদ রাকিবুলের বাবা-মা

16

নাসিরনগরে লাইভস্টক শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, কমপ্লি

17

দিনাজপুর-৫ আসনে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে ব্যস্ত স্বতন্ত্র প্র

18

বাঞ্ছারামপুরে গাঁজা সহ ১জন গ্রেফতার

19

ঢাকা -ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত -৩

20