গাজী মাহমুদ পারভেজ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতির হিড়িক পড়েছে। এক রাতের ব্যবধানে উপজেলার দুই ইউনিয়নে সংঘটিত দুর্ধর্ষ দুইটি ডাকাতির ঘটনায় লুট হয়েছে প্রায় এক কোটিরও বেশি টাকার সম্পদ, আহত হয়েছেন কয়েকজন গৃহস্থ। এসব ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক, আর স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন প্রশাসনের দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।
গত রবিবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের বাড়িতে সঙ্ঘবদ্ধ একদল ডাকাত গ্রিল কেটে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তারা ঘরের আলমারি ও লকার ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতরা মুখে কাপড় বেঁধে, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাণ্ডব চালায়। পুরো ঘটনাটি ছিল দ্রুত ও অত্যন্ত পরিকল্পিত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“রাতে পুলিশি টহল বলতে কিছুই নেই। ডাকাতরা এখন মনে করছে তারা রাজত্ব করছে—আর আমরা ভয়ে ঘরে তালা মেরে থাকি।”
অপরদিকে একদিন পর সোমবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে, একই উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের সাতকানিয়া গ্রামে সংঘটিত হয় আরেকটি দুর্ধর্ষ ডাকাতি। ব্যবসায়ী আলম মিয়া ও মামুন মিয়ার বাড়িতে ১৫-২০ সদস্যের একদল ডাকাত বারান্দার গ্রিল কেটে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে জিম্মি করে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আলম মিয়া জানান,“আমরা দুই ভাই ব্যবসার কাজে ঢাকায় থাকি। বাসায় শুধু বাবা-মা ছিলেন। ডাকাতদল রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ হামলা চালিয়ে সব লুট করে নিয়ে যায়। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, বাবা-মাকে জিম্মি করে রেখেছিল।”
এই ঘটনাটি পুরো এলাকাকে স্তম্ভিত করেছে। দুই দিন ব্যবধানে দুই ইউনিয়নে একই ধাঁচের ডাকাতি ঘটায় এলাকাবাসী বলছে—এটি কোনো একই সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ব্যর্থতা ও পুলিশের গাফিলতির কারণেই গজারিয়ায় অপরাধচক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও পুলিশ প্রশাসন কেবল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। প্রশাসন শুধু তদন্তের কথা বলে। কিন্তু আমরা চাই ফলাফ আমরা চাই নিরাপত্তা।” নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম না থাকায় অপরাধীরা এখন সহজে পরিকল্পনা করে অপরাধ সংঘটিত করছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “দুইটি ডাকাতির ঘটনাই একই ধরনের। উভয় বাড়ি নিরিবিলি এলাকায় অবস্থিত। ডাকাত দলের পরিধানের পোশাকও মিলছে। আমরা নিশ্চিত এটি একই সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন (পিপিএম) বলেন, “আমরা গত দুই দিন যাবৎ ডাকাত চক্রটিকে ধরতে তৎপর আছি। শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।”