মঞ্জুরুল আলম মোজাহিদকৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত 'সার সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫' সংশোধন, খুচরা সার বিক্রেতা আইডি কার্ডধারীদের বহাল রাখা এবং ট্রেড অর্গানাইজেশন (টি.ও) লাইসেন্স কার্যক্রম চালুর দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (০৪/১২/২০২৫ ইং) সীতাকুন্ড উপজেলা চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
'খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ' সীতাকুন্ড উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নতুন নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার খুচরা সার ডিলার তাদের জীবিকা হারাবেন। বক্তারা এই নীতিমালায় খুচরা বিক্রেতাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মানববন্ধনে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো:
আইডি কার্ডধারীদের বহাল রাখা: বৈধ আইডি কার্ডধারী সকল খুচরা সার বিক্রেতাকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বহাল রাখতে হবে।
টি.ও লাইসেন্স প্রদান: দ্রুততম সময়ের মধ্যে টি.ও (ট্রেড অর্গানাইজেশন) লাইসেন্স নবায়ন ও প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
নীতিমালা সংশোধন: খুচরা সার বিক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে 'সার সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫' সংশোধন করতে হবে এবং ২০০৯ সালের নীতিমালা বহাল রাখতে হবে।
বক্তাদের বক্তব্য
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্রেতা ও কৃষকদের পক্ষ থেকে একাধিক বক্তা তাদের বক্তব্য পেশ করেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, খুচরা বিক্রেতারাই কম লাভে এবং দ্রুততম সময়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেন। বহু ক্ষেত্রে তারা কৃষকদের বাকিতে সার দিয়ে সহযোগিতা করেন, যা অন্য কোনো বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব নয়।
বক্তারা বলেন, "আমরা দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সততার সাথে এই ব্যবসা করে আসছি। নতুন নীতিমালা বাতিল না হলে হাজারো পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়বে।" তারা আরও উল্লেখ করেন, খুচরা বিক্রেতাদের বাদ দিলে সার সিন্ডিকেট মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।
মানববন্ধন শেষে 'খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ'-এর একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর মাধ্যমে কৃষি সচিব/প্রধান উপদেষ্টা বরাবর তাদের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। এই কর্মসূচিতে সীতাকুন্ড উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক খুচরা সার বিক্রেতা ও কৃষক অংশগ্রহণ করেন।